বিরহের কবিতা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
বিরহের কবিতা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

পলাতক ভালোবাসা

বৃহস্পতিবার, ২১ আগস্ট, ২০১৪

সুদূরে প্রসারিত হাত, হৃৎপিণ্ডে শুকনো পাতার মর্মর,
ঝড়ের বেগে বৃষ্টির আঁচড় লাগে তাই ক্ষত বিক্ষত হই।
বৃশ্চিক আঁখি শূন্যের পানে চেয়ে থাকে অপলক,
শুকনো বৃক্ষে ঝুলে থাকে মন একাকীত্বের অনুরোধে।
ঊর্ধ্বশ্বাসে ছুটে আসে স্মৃতি তাই স্বপ্ন হয় বিভীষিকা,
তবুও ময়ূরী মন মালা বদলের গল্প সাজায় ঘিঞ্জি পৃষ্ঠায়।

আশার বুনোহাঁস উড়ে যায় ফের, দুঃখ দিগন্তপ্রসারী,
পুরনো ক্যাকটাসে বিঁধে থাকে প্রশান্তির মায়াময় ঘুম।
রৌদ্র চিঠি হারিয়ে যায় মেঘেদের বিস্তৃত পদচারনায়,
নিশ্চিত আত্মসমর্পণ করে উড়োচিঠি, মেলে না উত্তর।
স্বচ্ছ আভা সরে যায় দূরে, চকচকে অশ্রু ঝরে চোখে,
নক্ষত্র বিলায় আলো, তবে তা ডেকে আনে অন্ধকার।

সহস্র অন্ধকার রাত্রি পেরিয়ে যায়, একে যায় ব্যথাতুর,
স্পর্শে সূর্য হারায় আলো, দুহাতে দেখি শুধু কৃষ্ণ রেখা।
কালের বিবর্ণ ছাপচিত্রেও দেখি আলো,তবে তা ক্ষণিকের,
নামে গাড় বেদনার চুইয়ে পড়া জল, কুয়াশার ঢল।
বিমূর্ত স্বপ্নের কাফনে ঢেকে যায় মন, সমস্ত সত্ত্বা,
বেরিয়ে আসে বুকের পাঁজর ভেঙ্গে অসমাপ্ত দীর্ঘশ্বাস।

জীবনের আধুলি কুড়িয়ে হেঁটে যাই, তবুও অনেক বাকি,
আধোঘুমে জেগে ওঠা সকাল আমাকে বলে পথের দূরত্ব।
শুভ্র শেফালি ছুঁয়ে দেখি অতৃপ্ত মালার অব্যক্ত আর্তনাদ,
ভালোবেসে আমি হেঁটে যাই, চিরতরের দুঃখ মাখা পথে।
রংধনু, নীলিমা আমাকে ভাবায়, তবু তা আজ উপেক্ষিত,
আমি অদ্ভুত চোখে চেয়ে থাকি ধুধুময় শূন্য পথের পানে।

ওড়ে শঙ্খচিল, ওড়ে দাঁড়কাক, ভবঘুরে হলুদ পাখির দল,
উড়ে যায় ভালোবাসা, পড়ে থাকে ছিন্ন পালক তার।
ক্ষুধার্ত চোখ-ব্যর্থ আকাঙ্ক্ষায় খোঁজে পলাতক ভালোবাসা,
অজস্র প্রদীপ শিখার আড়ালে খোঁজে মায়াময়ী প্রেম।
শ্বাসরোধী আবেগ খোঁজে বিশ্বাস, অব্যর্থ স্বপ্ন, কাঙ্খিত আশা,
তবুও বার বার জন্ম নেয় হতাসা, হারিয়ে যায় প্রেম-স্পর্শ।

ওগো ও কিশোরী মেয়ে....

বুধবার, ১২ মার্চ, ২০১৪

ওগো ও কিশোরী মেয়ে____
ঐ দূর হতে চঞ্চল চোখে কার পানে থাকো চেয়ে ?
দুরু দুরু বুক খেয়ালী হাওয়ায় থেকে থেকে কেঁপে ওঠে,
মেঘের মিতালি খোলা চুলগুলি রাঙা ঠোঁটেতে পুষ্প ফোটে।
ব্যকুল হৃদয়ে বারে বারে ডাক কারে তুমি এত বারে ?
কার ছায়া তুমি দেখেছ জলে হৃদয় নদীর ধারে।
কে সাথী গো তোমার, কারে দেখ তুমি স্বপ্নে বিভোর হয়ে?
সে কি দেবে দেখা ভেঙ্গে ব্যকুলতা, দেবে কি তোমায় ছুঁয়ে?
নাকি নিশিদিন স্বপ্নে বিলীন হবে তুমি পুড়ে ছাই ,
ব্যথার বাঁধনে কারে বাঁধ তুমি কিযে তার পরিচয়?
সে কি প্রিয় হয়ে জীবনের পথে চলবে হাতটি ধরে ?
নাকি পথিকের বেশে অচেনা হয়ে-যাবে-আনপথে পথ ভুলে?

জানো না কিছুই তুমি____
তবু কেন আঁক চোখেতে তোমার গোধূলির বেলাভূমি।
রংধনু আঁকা রঙ্গিন আকাশ কেন খুঁজে ফের মিছে?
কেন একা একা বাসর সাজাও হৃদয়ের তটনীতে ।
ভোরের কোমল পুষ্প ছুঁয়েছ, ভেবেছ স্বপ্ন মাখা,
বোঝনিকো তুমি জীবনের পথ কতটা গরল বাঁকা।
বয়ে যায় বায়ু, খেলা করে রোদ, মেঘ হাসে চুপি চুপি,
নিশিদিন তুমি পড়ে যাও শুধু রাঙ্গা-প্রেম-স্বরলিপি ।
গেঁথে যাও মালা এ-বেলা ও-বেলা সারাবেলা সারাক্ষণ,
বেঁধে যাও বুক অজানা আশায় পেতে শুধু অনুক্ষণ।
স্বপ্ন আকাশে ডানা মেলে যাও ঐ দূর ছায়াপথে,
না জানি কোথায় হারিয়ে যে যাও, খুঁজে ফের আঁখিপাতে।

অবুঝ মনের তীরে____
না জেনে কেন ডেকে যাও ফের, কেন চাও ফিরে ফিরে?
উদাসিনী হয়ে চেয়ে রও কেন আঁধার গগণ পানে,
শুধু সাথী হয় রাতি জোনাকিরা, কথা কয় কানে কানে।
ওগো ও কিশোরী, মেঘবতী পরী কেন থাক তুমি জেগে?
কেন খোঁজ নীড় ঐ সে সুদূর আকাশের মেঘে মেঘে।
হিমেল বাতাস, চুপকথা ঘাস খেলা করে শিশিরেরা,
ভেবে ভেবে কেন ভাবনা আকাশে ডানা মেলে দিশেহারা।
রাত জাগা পাখি গেয়ে যায় গান বিরহ ব্যথার সুরে,
সেই সুরে কেন হও বেসামাল আপনা অন্তঃপুরে।
ঝিঝি পোকা ডাকে ঝিম ধরা সুরে, ডাহুকেরা দেয় ডাক,
কেন বল কথা কখনওবা একা, কখনওবা নির্বাক।

ব্যথা করে ওঠে চোখ_____
আঁধার এসেছে অন্ধ হয়ে আলোকিত দিবালোক।
তবুও তুমি চেয়ে আছো কেন এই সে শূন্য পথে?
হেথা চোরাবালি মরিচিকা শুধু কূলে কূলে বাঁকে বাঁকে।
কেন থাক তুমি আশায় আশায় স্বপ্নতে বুক পেতে,
কেন ভেসে যাও ভাঙ্গা তরী হয়ে উদাসী আবেগি স্রোতে?
এতো ঘোর লাগা সময় তোমার, অঘোর ঘোরের ঘোর,
ভুলে গেছ ঐ সাঁঝের বেলায় বন্ধ হয়েছে দোর।
ধূপ জ্বেলে তুমি বসিছ পূজায়, কামনা শুধু যে তার,
এতো বন্দনা, এতো প্রার্থনা, নিশিদিন একাকার।
তবুও সে দূরে, দূর বহু দূরে হয়তো হবে না দেখা,
কেটে যাবে দিন খুঁজে খুঁজে কেঁদে ভীরু হয়ে একা একা।

হয়তোবা পাখি হয়ে____
গেয়ে যাবে একা দুঃখ সুখের বিরহের গান গেয়ে।
শাঁখে শাঁখে তুমি খুঁজে যাবে তারে যে চির উদাসী একা,
মিনতির সুরে ডেকে যাবে তুমি যদি হয় ফের দেখা!
পালক ডানায় ক্লান্ত বাতাস যদি বলে ফিরে এসে,
কি পেলে তুমি ? সর্ব হারায়ে একা একা ভালবেসে ।
কি করে বোঝাবে তারে তুমি বল, আছে কোন উত্তর?
উঠবে না কেঁপে, বুক ফেঁপে ফেঁপে- তোমার কণ্ঠস্বর ?
শুকনো বৃক্ষের মৃত ডালে যদি সবুজের দেখা পাও,
তবে তারে খুঁজো আলোতে আঁধারে, রক্তিম জোছনায়।
যদি পাখি হও ফিরে এসো নীড়ে, দেখ সন্ধ্যা নামিছে ঐ,
বনের গহীনে আঁধারের বুকে রবে তুমি বল কই?

ফুলের মতন করে____
যদি ফোট তুমি কোমলতা নিয়ে লাজে রাঙা প্রতি ভোরে।
যদি গন্ধ বিলায়ে পেতে চাও তারে ভ্রমরের মত করে,
আসিবে কি সে শুভ্র সকালে ফোটা ফুল প্রান্তরে?
প্রজাপতি হয়ে আসিবে কি সে তোমার মৌ-এর ঘ্রানে ?
ছুঁয়ে যাবে রেণু পরাগের ঐ উষ্ণ কোমল প্রানে?
নাকি ঝরে যাবে পূজার ডালিতে উৎসর্গ ভগবানে?
নাকি দলিত হবে অনাদরে শুধু পথিকের পদতলে?
কত ফুল কত নীরবে ঝরেছে গভীর আবেগে কেঁদে,
রাখেনি হিসেব ভুলো মাটি এই ধুলো মাখা পথ বাঁকে।
কেন তবে কাঁদ শিহরের পানে বিরহের সাথী হয়ে,
মাতাল হাওয়ায় গন্ধ ছড়ায়ে একা একা কথা কয়ে।

অথবা নদীর মত____
বয়ে যাও যদি দুলে যাওয়া জলে, ফুলে ওঠা ঢেউ শত-
যদি নিরুদ্দেশের পানসী ভাসাও তোমার বহতা বুকে?
যদি চলে তা ছেঁড়া পাল তুলে বাতাসের তালে ধুঁকে-
যদি নিরুপায় মাঝি গেয়ে ওঠে গান বিরহের সুর লয়ে,
তারে তুমি বোল ফিরে এসো তীরে শত ব্যথা দুখ ভুলে।
যদি ছলছল জল উতলা হয়ে দুপারের পাড় ভাঙ্গে?
কি করে ভিড়াবে ভাঙা তরী ঐ যা ভাসে জলে অকারনে।
ঝরা পাতা যদি ভাসাও বুকেতে আমার অন্বেষণে,
তবে জেনে নিও বৃথা হবে তা অতল সংগোপনে।

বরুদা তুমি শুনতে পাচ্ছ?

রবিবার, ২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৪

বরুদা তুমি শুনতে পাচ্ছ?
তির তির করে কেঁপে ওঠা বাতাস আজ ফিরিয়ে দিচ্ছে-
সেই শ্লোগান। রাত মশালের উষ্ণতা।
তোমার বুক পকেটে রক্তে ভেজা চিঠিটা হাতে নিতেই-
মুখটা আমার রক্তিম হয়ে উঠেছে, তাকিয়ে দেখ-
আমি কাঁদছি না, আমি নিভছি না,
আমি জ্বলে উঠছি বারুদের মত ।
আমার ভিতরে উঠছে কালবৈশাখী ঝড়ের মাতন,
আমি গর্জে উঠছি উত্তাল ঢেউ এর মত


আমার রক্তে মিশে আছে দেখ সংগ্রামী চেতনা,

দেখ আজও লালিত আমার প্রানে-
সেই বাংলা ভাষার সরলিপি, সেই প্ল্যাকার্ড হাতে-
মাতৃ ভাষার অস্তিত্তের দাবি। তুমি শুনতে পাচ্ছ?
বড় ব্যথা ওঠে যখন অবজ্ঞায় দূরে সরিয়ে দেয় ওরা-
ভাষার সকীয়তা, ভাষার বৈভব।
ভিতরে ভিতরে আমি বিদ্রোহী হয়ে উঠি-
আমারা হৃদয় চত্তরে নামে প্রানবন্ত প্রতিবাদের মিছিল,
বুকের ব্যনারে লিখি ভাষার যথাযত মূল্যায়ন চাই।  
 
দিনের কাছে আমি পড়ন্ত বিকেল-
নতুন প্রজন্মের কাছে হয়ত পঙ্গু,
অকার্যকর,
কিন্তু-
আমার প্রানের সুর, চুপকথা, গান-
আজও অম্লান। আজও আমার কণ্ঠ হয়নি মলিন ।     
কোথায় তুমি? এত অভিমান কেন তোমার?
বরুদা ! বরুদা তুমি কি শুনতে পাচ্ছ?

আমার বুকের স্পন্দন,আমার নিভৃত আকুতি-
আমার অব্যক্ত কথার গুমড়ে কাঁদা আর্তনাদ,
আমার চিৎকার করা ধ্বনি  কিমবা প্রতিধ্বনি
। 


রসনার রৈদ্রদগ্ধ কৃষ্ণচূড়া তলায় দেখ আজ-
বিক্রি হচ্ছে আদর্শলিপি, লাল চুড়ি, সবুজ ফিতা,
পতাকা, হাসিমাখা সস্তা প্রেমের গল্প, উপন্যাস,
আমার পরনে নেই নীল শাড়ি, খোঁপায় নেই-
বেলি ফুলের মালা,সাদা শাড়িতেই এখন আমার-
নিত্য আসা যাওয়া। আমি আজও কবিতা লিখি-
গোটা গোটা বাংলা অক্ষরের ফুল দিয়ে।
কিন্তু একটি কবিতাও ছাপা হয়নি কোথাও,
সত্যি বলছি-আমার কবিতাগুলো সব তোমাকে ঘিরে,
তুমি কি শুনবে বল সব ?          

বিকেল হতেই আজ আকাশের কি হল বলত?
অবিরাম অশ্রু ফেলে আমাকে শান্ত করে দিতে চাইছে।
আকাশের নীলগুলো সব হারিয়ে গেছে -
হারিয়ে গেছে কাশফুল ছোঁয়া টুকরো সাদা মেঘের দল,
গুমোট মেঘে মেঘে নেমে এসেছে অন্ধকার।
আচ্ছা! আমার বুকের ভেতরটা হঠাৎ শূন্য হয়ে এলো কেন?
কোথায় তুমি? তুমি কি শুনতে পাচ্ছ না আমার কথা?
নিঝুম রাতের নির্ঘুম জোনাকির সাথে কথা বলে বলে আমি-
ঘুমিয়ে পড়ি ।তারপর নেমে আসে শুভ্র সকাল।      

ঘোমটা দেওয়া জানালায় দেখ রোদ উঠেছে,
দেখ শিশির পড়েছে তাজা সবুজ ঘাসের কোলে।
এ তোমার প্রতিশ্রুতির রাঙা ভোর নয় জানি,
জানি সম্মুখের নির্জন রাস্তায় হয়ত উড়ে যাবে কাক
শূন্য এ পথ জুড়ে থাকবে শুধু ঘোর লাগা সময়-
আর এক জোড়া ধুসর-কালো চোখ।
যে চোখে জ্বালা, যে চোখে তৃষ্ণা-
যে চোখে ভেসে ওঠে আজও সেই রক্তাত্ত রাজপথ
নিশ্চুপ ঘুমন্ত মুখের ছবি।  


পোড়ামাটির উঠোন জুড়ে জীর্ণ স্মৃতি

শুক্রবার, ৩১ জানুয়ারি, ২০১৪

ধমনীর স্পন্দনের সাথে পেরিয়ে যায় সময়ের সহস্র প্রহর,
পোড়ামাটির উঠোন জুড়ে আসে জীর্ণ স্মৃতির শুকনো পাতা।
অতন্দ্র বূভূক্ষ হৃদয়ে বীভৎস উষ্ণতার ছোঁয়া এসে দোল খায়,
ঘুমন্ত জোনাকির দেহ ঢেকে গেছে গাড় কুয়াশার চাদরে।
অনুভূতিগুলো ঘুমিয়ে গেছে শান্ত হয়ে অধীর অপেক্ষা করে,
প্রতিটি শ্বাস-প্রশ্বাস–দীর্ঘশ্বাস একাকার হয়েছে শূন্যতায়।
স্নিগ্ধ প্রভাতের পথে চলতে গিয়ে পূর্ণ হয়েছে হৃদয় রিক্তের বিষাদে,
কৃষ্ণকাশের নির্বাণ ধ্রুব তাঁরা দেখা যায় তবু ছোঁয়া যায় না।
মৃত নদীর বুকে অদৃশ্য ঢেউয়ের গর্জন শুনতে পায় না কেউ,
শুধু অবহেলায় ফোটা কাশফুল ছুয়ে যায় সবাই তীব্র আগ্রহে।

ক্লান্ত তীর্থ যাত্রী বেশে দুঃখ হাটে- সমাগত প্রার্থনার প্রহরে,
সুবর্ণ ক্ষণের প্রত্যাশা কেবলই বিস্ময়ের বলয়ে বন্দি।
বিচূর্ণ বিচ্ছুরিত আলোর মাঝে মৃত স্বপ্নের লাশের স্তুপ,
ক্রুশবিদ্ধ হয়েছে ভালবাসার মানচিত্র, পতাকা আর রোমাল।
রক্তাত্ত চিত্তের আর্তনাদ কেবলই গহীনেই বিলীন হয়,
ব্যস্ত রাজপথে নেমে আসে না অভিমানী মৌন মিছিল।
রক্তের দাগ মুছে আর কতটুকুই বা আড়াল করা যায় ক্ষত,
অশ্রুজলে কতটুকুই বা নেভানো যায় ভাঙা বুকের দাবানল।
ধর্ষিত সত্ত্বার নগ্নতা দেখে লজ্জিত হই নিজেই নিজের কাছে,
বাতাসের উপহাসে ব্যকারনহীন হয় মনের না বলা ভাষা।

দ্বৈতস্বত্বার গোপন মিলন দেখেনি কেউ, তবু জানে সবাই,
দেহের ধমনী, শিরার গভীর ষড়যন্ত্র আজ উন্মোচিত জনসমক্ষে।
এখনও নাকে লেগে থাকা ঘামের গন্ধে হই মাতাল-বেসামাল,
বিচলিত হই অতীত-বর্তমানের বিচ্ছেদ রেখার দৃঢ়তায়।
ভালবাসা ঘৃণা হয়ে ঘুরে বেড়ায় নিকষ আঁধারে,খাঁ খাঁ রোদে,
লাজ অন্ধ হয়ে চলে প্রকাশ্যে তবুও দ্বন্দ্ব হয় অপরাধবোধের সাথে।
মুহূর্তের পর মুহূর্ত চলে কেবলই অভিনব রঙ্গিন মুখোশে,
তবু, পিপাসার পেয়ালায় বদলায় না রং, শুধু তৃষ্ণা বেড়েই চলে।
অধিকারের আসন জুড়ে এক বিরাট শূন্যতা,হাহাকার স্পন্দন,
আশ্রয় খুঁজে খুঁজে নিজেকে বিলীন করাই হয়ত ভালোবাসার মানে।

নির্ঘুম বনবাসে এক নীরব অনুভূতি আমাকে আশ্রয় দেয় স্বইচ্ছায়,
বিষণ্ণতায় গাড় নীল ছড়িয়ে পড়ে সে তপোবনের আঙ্গিনা জুড়ে।
শীতল অনুভূতি হিম শীতল হয়ে জানিয়ে দেয় বেদনার স্পর্শকাতরতা,
জ্যোৎস্না বৃষ্টিতে ভিজে আমি চেয়ে থাকি আকাশের দিকে উদাসী হয়ে।
রহস্যের মাকড়শা জাল বুনে বুনে ক্লান্ত হয়ে ঘুমিয়ে পড়ে আমার পাশে,
আমি গভীর প্রেমের আলিঙ্গনে বন্দী করি বাহুডোরে উদার চিত্তে।
শুকনো কিছু ঝরা ফুল ভিজে যায় আচমকা এক পশলা বৃষ্টিতে,
আমিও ভিজে যাই নিমেষেই তবুও ভেজে না রুক্ষ এ মন এতটুকুও।
বেড়ে যায় আঁধারী কষ্টের দৈর্ঘ্য,প্রস্থ, উচ্চতা আর শূন্যতার ওজন,
আমি ক্লান্ত হয়ে ঘুমিয়ে যাই, বইতে পারিনা আর এত অসহন ভার।

পলাতক প্রশান্তি ফিরে আসে না আর এই অস্থির অশান্ত প্রান্তরে,
কেবলই একাকীত্বের নীল গোলাপ ফোঁটায় উর্বর ব্যথিত হৃদয়ে।
কালো প্রজাপতির দল এসে ভিড় করে এই নীল গোলাপ কাননে,
হুতুম প্যাঁচার বিরহী গানের সুরে মাতোয়ারা এই পোড়া মাটির মদিরা।
এক বিন্দু জল,নদী, সাগর, আকাশ আর মহাকাশ বাঁধা পড়ে সুতোয়,
আমার এক হাতে সেই মালা অন্য হাতে পুরনো এক পোড়া বাঁশি।
আমি ভারাক্রান্ত সুর তুলি,কিন্তু ধ্বনিত হয় না, শুনতে পায় না কেউ,
শুধু শুনতে পায় পোড়া মাটির উঠোনে বসবাসরত কুনো ব্যাঙের দল।
গহিনে-গোপনে অনুভূত পরশে এসে দোলা দিয়ে যায় অতৃপ্ত এক সুর,
আমি ভুলে যাই বর্তমান, মনে হয় অতীতের মাঝে আমার চির বসবাস।

অভিশাপের আগুনে পুড়তে দেখেছি আমি গোটা পৃথিবীর বক্ষ,
তবুও সে আগুন আমি জ্বালাতে পারিনি- নিষ্ঠুর,পাষাণ হয়ে।
বারংবার শুধু কেঁপে উঠেছি মনের জ্বলন্ত চিতার তপ্ত আগুনে,
আমি পুড়ে সহেছি, জেনেছি বেঁচে থাকা মানে দগ্ধ যন্ত্রণা।
নিষ্ফল আবেদন করেছি বিধাতার কাছে বড় অসহায় হয়ে,
তবু বদ্ধ দুয়ার খোলেনি একটিও, আমি শুধুই চেয়ে থেকেছি।
ঘর ভেঙ্গে লণ্ডভণ্ড হয়ে পড়ে থাকে-রুস্থ এক হৃদয়ের উঠোন,
ছিঁড়ে যায় প্রণয়ের অভিলাস,অদৃশ্য প্রেমের এক মায়ার বাঁধন।
প্রতারণার আঘাতে ভেঙ্গে চুরে চুরমার হয়েছে অনুভূত এক জগত,
প্রিয়ংবদায় পূর্ণ পৃথিবী শূন্য হয়ে পড়ে থাকে শূন্য বক্ষের কুঠিরে।

অস্পষ্ট হচ্ছে পৃথিবী-অনুভুত স্বপ্নে মরীচিকা পড়ে পড়ে,
দুষ্প্রাপ্য ক্ষুধাবোধ জেগে আবার ডুব দেয় আঁধারের কালো জলে।
স্বার্থের অপমৃত্যুতে জীবন হয়েছে আজ অসমভুজের মত,
চন্দ্রাভুক অমাবস্যার সুচনা তাই এই অসময়ের অনুপ্রান্তে।
সঞ্চারিত হয় স্মৃতির উঠোন জুড়ে ব্যথিত বেদনার ঘোলা জল,
কিছু শুকনো স্মৃতির পাতা ভিজে যায় সে জলে, আমি ছুঁয়ে দেখি।
নিষ্কলঙ্ক বহুরূপতা আজ আবিস্কার করি কলঙ্কের এক রুপে,
দ্বিধা দ্বন্দ্ব ভুলে ঘৃণা করি তবু ভেতরে ভালোবাসা পুঞ্জিভূত।
ক্ষণে ক্ষণে ত্যাজ্য করেছি নিজেই নিজের মনকে অসংখ্যবার,
তবুও এই মুক্ত কারাগারে বন্দী রয়ে গেছি নিজেরই অজান্তে।

আমি হেঁটে গেছি ধুলোমাখা পথ ধরে তোমার পায়ের চিহ্ন অন্বেষণে,
জানি বৃথা সব তবুও সে চলার মাঝে খুঁজে পেয়েছি অজানা তৃপ্তি।
চলতে চলতে কখন যেন মাটির সাথে ঘুমিয়ে গেছে নিজের ছায়া,
আমি ডেকেছি বহুবার তবু ঘুম ভাঙ্গেনি,দেয়নি সাড়া একটিবারও।
অবান্তর সময়ের হাত ধরে শুধুই আমি চলেছি ফের নিজেকে হারিয়ে,
ধূলিধূসর স্মৃতি পড়ে আছে এই ধুলোমাখা সারাটা পথের বুক জুড়ে।
নৈহৃত কিমবা ঈশান কোনের বাতাস এসে স্পর্শ করে অনুভূত শরীর,
আচমকা কেঁপে উঠি, নাকে লাগে সেই পরিচিত বাতাসের গন্ধ।
ধুলোয় আঁকা আল্পনা এলোমেলো হয়েছে ব্যথিত বাতাসের সঙ্গমে,
আজ সে পথে দেখি কেবলই দহন জালা, দগ্ধ দুঃখের স্পষ্ট মানচিত্র।

দ্বিপ্রহরের কাঁধে ভর করে আসে গোধূলি লগন হৃদয়ের ক্ষরিত রঙ্গে,
মৃত্যু সাঁতার দেয় সাদা মেঘের দল গোপন ব্যথার নীরব সাথী হয়ে।
নিশুতি প্রেমের আলপনা আঁকে মেঘেরা ঢেউয়ে ঢেউয়ে অপূর্ব ঢঙ্গে,
ডিঙ্গি নৌকার বৈঠা হারিয়ে যায় রঙের নরম জলের শুভ্র আবরণে।
প্রতিনিয়ত প্রতিস্থাপনের খেলা চলে দুরন্ত মেঘের পরতে পরতে,
ধুপ গন্ধহীন টুকরো মেঘেদের রতির সঙ্গী হয়ে থাকে শুধু রঙ।
কিছু স্বপ্ন মঙ্গলের অমৃত মৌন বাসনা জেগে ওঠে বিষণ্ণ অনুরোধে,
ফের মিলিয়ে যায় নক্ষত্রের অভিশাপে নীলাম্বরী আকাশের নগ্ন বুকে।
ব্যবচ্ছেদ হয় পুঞ্জিত স্মৃতির শিরোনাম, বিষাদ আর আর্তনাদের,
চোখ ফেটে জল আসে, বুঝি-আজ অশ্রুদের লুকোনোর জায়গা নেই।

চন্দ্র বিন্দুর নিঃস্বার স্বপ্নচোখ ছড়ায় এখন বিষাদী নীল আন্ধকার,
নিঃসৃত সে অন্ধকারে মিশে গেছে নাড়ীর স্পন্দন আর গাড় চুম্বন।
এখন অস্পষ্ট স্বরে ভেসে আসে বুক ফাটা আর্তনাদ আর কান্না,
হৃদয়ের উঠোনে নেমে আসে ভরা মলিন জ্যোৎস্না স্মৃতির কাতরে।
দুঃখের চিত্রকর শুধু দুঃখ আঁকে রাত্রি সুমুদ্দ্রের উত্তাল বুকে জেগে,
খেলে জলজ খেলা- জল, রং আর বেদনার মাতাল ঢেউয়ের সংমিশ্রণে।
বেদনার্ত জ্যোৎস্না ক্লান্তিহীন কথা বলে সে দুঃখের চিত্রকরের সাথে,
নিরবে নিঃশব্দে প্রতিটি নিঃশ্বাসে ফুসফুসের বায়ু কুটরি আন্দোলিত হয়।
হৃদপিণ্ডের নিলয় থেকে শিকল ছিড়ে স্মৃতি ছুটে বের হয়ে আসে,
নাকের ডগা তির তির করে কেঁপে উঠে ভিজে যায় মস্তিষ্কের বিচলনে।

অস্পষ্ট রঙ্গমঞ্চ আবার স্পষ্ট হয়ে ওঠে, ভেসে উঠে হাসি মাখা সূর্য,
যেন রাত্রি সুমুদ্দ্রের তীরে প্রভাতের- প্রশান্ত,কোমল পুষ্পের বালুচর।
কিন্তু আজ আমার দৃষ্টি বন্দী হয়েছে কালো বেদনার বদ্ধ কারাতে,
কোমল প্রভাত আজ বড় অসহ্য, তিক্ত ব্যথার প্রারম্ভিক মনে হয়।
চোখের ভাষার ব্যাকরণ ভেঙ্গে সজ্জিত হয়েছে রোষানলের বর্ণে ,
একাকীত্বের নীল কষ্টে ডুবে ডুবে ফের ভেসে উঠি মায়াবী লগনে।
উচ্ছ্বাসিত আবেগ গলে পড়ে না আর রোদেলা আলোর বরিষনে,
পাথর মনে রোদ এসে প্রতিবিম্ব হয়ে ফিরে যায় তির্যক ভাবে।
রুক্ষ চোখের তাঁরায় আজ ভাঙা নূপুরের ছবি আর বিষধর ফণা,
স্মৃতির বিষ আজ আমার শরীরের রন্ধ্রে রন্ধ্রে চলমান হয়ে আছে।

জীবন সায়াহ্নে দেখি স্মৃতির কাঁটাতার ,সীমান্তে প্রাচীর বেষ্টনী,
কাঁদা মাটির শব্দগুলো কিছু ঝুলে আছে কাঁটাতারে অসহায় হয়ে।
হৃদয়ের সব লুকোচুরি খেলা শেষ হয় এই সীমান্তে এসে,
অপেক্ষার পালা শেষ হয়ে আসে মুক্তোদানা অশ্রু,বিবর্ণ অবিধান।
হাজার ও অভিলাষ পালিয়ে যায় আঁধারে, বিষণ্ণ অবগাহনের আলিঙ্গনে,
বহমান দু:স্বপ্নের রাত নিত্য সাথী হয়ে থাকে আমার একাগ্র চিত্তে।
পৃথিবীর কোল জুড়ে নিস্তব্ধতা নিয়ে এখন আর রাত নামে না,
চারিদিকে কোলাহল, মুখরিত দুঃখ, বেদনার দগ্ধ বিলাপে।
মনের অব্যক্ত বাসনা বিলীন হয়েছে নিবিড় মনের সীমান্তেই,
মৃত প্রেমের ভাঙ্গা হাড়ে পূর্ণ হয় আজ মনের শ্মশান,অস্ফুট শূন্যতা।

আমার কল্পিত সহস্র আত্মহনন দেখনি তুমি একটি বারও ফিরে,
দুরাত্মার সাথে স্বআত্মার দাবি তুমি অগ্রাহ্য করেছ তা বোঝনি।
শুধু ভেবেছো উদাস কবির মনের ক্যানভাস কেবলই হেঁয়ালি,
রঙতুলিতে এঁকেছি তোমার সমস্ত সত্ত্বা, প্রত্যয়ী প্রেম-তুমি দেখনি।
বিলোপিত বেলাভূমির বিবর্ণ বদন চেয়ে থাকে আমার দিকে,
বেদনা বিহঙ্গ রুপে বিচরণ করে বর্ণচোরা ভাঙা পাঁজরের আকাশে।
আমার পৃথিবী ভেঙেচুরে চুরমার প্রবঞ্চনার প্রলয়ী ঝড়ে,
অতৃপ্ত আত্মাকে আহত করে পাশ কাটিয়ে চলে গেছো সন্তর্পণে।
অন্ধকার দেয়ালের শেষ প্রান্তে এসে দাড়িয়ে থাকি আমি নির্বিকার,
শুধু জীর্ণ স্মৃতিগুলো এসে আমাকে সঙ্গ দেয় আরও নিষ্প্রতিভ করতে।

ব্যঙ্গ করে নিজের ছায়া অসহায় মনের আত্মচিৎকার শুনে,
ছাই হয়ে উড়ে যায় অঙ্গিকার আর প্রতিজ্ঞার রূপালী কাগজ।
আমি শুধু দেখি অপলক দৃষ্টিতে নীরব,নিথর,অসাড় হয়ে,
হাত বাড়াতে পারিনা, আঁকড়ে ধরার চেষ্টা বৃথা হয় বার বার।
ব্যথিত আক্ষেপে কেটে যায় সকাল,দুপুর,রঙ্গিন গোধূলি,
স্নিগ্ধ বাতাস রুক্ষ হয়ে ফিরে আসে ভাঙা জানালার চৌকাঠে।
আকাশে গোঁত্তা খাওয়া ঘুড়ির মত আজ অস্থির চিত্তের চিত্রা হরিণ,
সবুজের চত্বরে ঘুরে ঘুরে-উষ্ণ এক মরুর বুকে এসে দিশেহারা।
চোখে ভাসে শুধু চোরাবালি আর তৃষিত হৃদয়ের ধুক-ধুক-স্পন্দন,
তপ্ত রোদ্দুর মাখা উষ্ণ প্রাচীরে হেলান দিয়ে ভাবি একদিন সমুদ্রে ছিলাম।

বজ্রনিনাদে ফিরে পাই চেতন,গুরুগম্ভীর স্বরাগম মেঘে মেঘে,
ভিজে যায় শুকনো পাতাগুলো,কিন্তু রক্ত অশ্রুতে নয়,বৃষ্টি ধারায়।
তুমি কাঁদনি, কেঁদেছে আকাশ ব্যথিত হয়ে গভীর আবেগে,
কেঁদেছি আমিও আকাশের সাথে,তাকে স্নান ভেবেছে সবাই ।
রাত্রি কেঁদেছে আঁধারে মুখ লুকিয়ে,প্রভাতে তাকে ভেবেছ শিশির ,
শুধু আমি জানি- সমবেদনার সাতকাহনে সে রজনী ছিল একান্ত সাথী।
পাহাড় কেঁদেছে তাই নেমে এসেছে ঝরনা ধারা,বৃক্ষ ঝরায়েছে পল্লব,
সমুদ্রে উঠেছে অশ্রুর প্লাবন, তুমি দেখছ তবু অশ্রু আসেনি ও চোখে।
আমার ভাঙা পাঁজর দেখে মৃত্তিকার বুক ফেটে হয়েছে চৌচির,
তুমি ভেবেছো চৈত্রের খরতাপে তুচ্ছ ফাটল,আমি দেখেছি তা কষ্টের পরিতাপে।

জীর্ণ স্মৃতির শুকনো পাতাগুলো উড়ে আসে মনের উঠোন জুড়ে,
এলোমেলো হয়ে যায় চারিপাশ অরুনন্দিত বাতাসের ঘূর্ণিতে।
ফুটে উঠা কোমল পদ্ম আজ অগ্নি মূর্তির মুখ হয়ে ভেসে ওঠে,
আলিঙ্গনের স্মৃতিকথা ভাঙ্গনের রুঢ় কথা হয়ে প্রাণে বাজে।
মেঘলা দিন কাটে না আর, নিন্দনীয় শুদ্ধতা মনের স্নিগ্ধতা ভাঙ্গে,
জানি প্রত্যাবর্তনও হবে না সুখের তবুও করি নীরব প্রত্যাশা।
পরাজয়ের বিস্মরণে আঁখিজল কেবলই কান্না নয় এ যে প্রেম,
ফানুসের মত উড়ে যায় স্বপ্ন – অজানা আকাশের ঠিকানায়।
বেঁচে থাকার কথা গাঁথা হয় আজ বোবা কান্নার মহাকাব্যে,
অন্ধকারাচ্ছন্ন নিঃসঙ্গতায় পথচলা আজ পোড়ামাটির উঠোন জুড়ে।

জানি আত্মাহুতিতে মেলেনা পরিত্রাণ, তাই বেঁচে আছি আজও,
কিছু ঋণ এখনও আছে বাকীর খাতায়, লেখা আছে অশ্রু দিয়ে।
ঘৃণায় নয় ভালোবাসায় শোধ হবে পুরনো হিসেব-নিকেশ,
আমানত অভিমান আমি ফিরিয়ে দেব তোমার শূন্য বিশ্বাসের ডালিতে,
বুকের ক্ষরিত কালো রক্ত দিয়ে আর এক বার সাজাবো তোমায়,
হৃদয়ের অভিধানে রাখা শব্দ-কথার মালা পরাবো তোমায় এবার।
তুমি দেখতে পাবে তবু স্পর্শ করতে পারবে না মৃত সে সত্ত্বাকে,
আরও কয়েক ফোঁটা রক্ত অশ্রু পাওনা আছে তোমার কাছে।
এই পোড়া মাটির উঠোনে এসে ফেলে যেয়ো সে অরুণিত জল,
জীর্ণ স্মৃতির শুকনো পাতা আরও একটু ভিজে যাক সে জলে।

সে আজ মিশে আছে শূন্যতায়

বৃষ্টির ছোঁয়ার মাঝে মিশে আছে সে___
তার হাসি,কান্না,গান,আন্নন্দ,বিস্ময়,অভিমান,
আমি বৃষ্টি দেখি,বুঝি তার নিগুঢ় মানে ।
ঝড়ের প্রনয়ে আমি কথা বলি তার সাথে-
শুভ্র বৃষ্টি ফোঁটা বিলীন হয় জলধারায়,সরল স্রোতে।
উদ্ভাসিত হৃদকম্পন ভাঙ্গা পাঁজরের হাড়ে,মেরুদণ্ডের সীমানায়-
কিছু দীর্ঘশ্বাস চলে যায় মৃত্যুর কোল ঘেঁসে অজানায়,
আমি ছুঁয়ে দেখি অতীত-স্মৃতির তরঙ্গ ।
অতঃপর শুকিয়ে পড়া রজনীগন্ধা ঝরে পড়ে নিচে,
শুন্য ফুলদানীর একাকীত্ব অনুভূত হয় অশ্রু স্পর্শে ।
কাল্পনিক অন্ধকার নেমে আসে মন অরণ্যে-
প্রেম তৃষ্ণায় ছুটে আসে ছিন্ন পদাবলী,নেশাময় চোখ,
অজস্র ভোর চুরি করে নিয়ে যায় তারা,পড়ে থাকে খোলস।
প্রভাতে দ্বার খুলে ঝরে পড়ে শিশির অবিরত,
নিঃশ্বাস ভিজে ভিজে ভারি হয় মধ্য দুপুরে।
আমি ছুঁয়ে দেখি তাকে হিমেল বাতাসে-
সে আজ মিশে আছে শূন্যতায়,
উড়ে যাওয়া গাঙ্গচিলের ফেলে যাওয়া পালক ছোঁয়ায়।।

নিভে যাওয়া নগরীর বুকে

নিভে গেছে নগরীর সব আলো, নীরব-নিথর-নিস্তব্ধ চারিদিক-
মৃদু কান্না-হাসির শব্দ এসে থেমে গেছে বিষণ্ণ এ জানালায়,
পৃথিবীর ক্লান্ত বুকে শুধু ধ্বনিত হয় ভারি নিঃশ্বাসের শব্দ-
বেদনার প্রবাহিত নদীর কলকল জল ধ্বনি আর কূল ভাঙা আর্তনাদ।

ধূসর পাণ্ডুলিপি আর ডায়েরির পাতাগুলো ভিজে হয় একাকার-
যেখানে গড়া ছিল অতীত-বর্তমান-ভবিষ্যতের সেতু বন্ধন ।
মৃত্তিকার গোপন গহব্বর থেকে অঙ্কুরিত বীজের দুর্বল হাতছানি,
সেখানে ভীড় করে কুয়াশার তরঙ্গ আর অচেনা অস্পষ্ট আলো ।

স্পষ্ট আলোর অপেক্ষায় পৃথিবীর ধূলিকণা,ঝরা পাতার কাব্য,
নীলাভ স্বপ্নের ভগ্ন বুকের স্পন্দন লুটায় ব্যকুল ব্যথার পদতলে।
অনাকাঙ্ক্ষিত মুহূর্তগুলো ভিড় করে নতুন উন্মাদনায়,প্রফুল্ল চিত্তে,
নিঃসঙ্গ মলিন ব্যথিত মুখে শ্রাবণের আধারিত নিকষ কালো মেঘ।

ক্ষুধার্ত হাহাকার,আহত অন্ধকার ঘুমিয়ে পড়ে শান্ত হয়ে আকাশ ছুঁয়ে ,
অভিমানী নক্ষত্রপুঞ্জ হারিয়ে যায়-ক্ষীণ বাতাসে, প্রবল মৌন আঘাতে।
দ্যুতিহীন নগরী শুধু দাঁড়িয়ে থাকে বেদনার একান্ত ব্যথিত সাথী হয়ে-
একে একে বন্ধ হয় সব কটা জানালা, সিঁড়ি,চিলেকোঠার অনুপ্রবেশ দ্বার ।

অনন্ত বাসনার পেয়ালা পূর্ণ হয় দুঃখ আর বিষাক্ত তরল সায়ানাইডে ,
অন্তঃপুরে ঝরা ফুল,অলস মন্দির, নগ্ন হাত আর প্রেতাত্মার ছায়া।
নগরীর পথে পথে পড়ে থাকে ধূলিকণা আর ঘুম পথে ভগ্ন স্বপ্নের স্তুপ,
শূন্যতার অপূর্ণ তৃপ্তি আঁকড়ে ধরে আমায়, নিভে যাওয়া নগরীর বুকে।

অতৃপ্ত জীবন

দুচোখের গভীরে- গভীর অপূর্ণতা -
অতৃপ্ত জীবন আজ পরিপূর্ণ –দীর্ঘশ্বাসে,
ভালবাসা এসেছিল তবে তা অস্পষ্টভাবে
হয়তো সত্য ছিল শুধু কল্পনায়।
বাস্তবতা যেন কাঁটার আঘাতে বিন্যাস্ত,
তবুও এ পথ চলা ।

সন্ধ্যা প্রদীপ জ্বেলে রাতের আঁধার মেনে নেওয়া স্ব-ইচ্ছায়,
জীর্ণ মনে মেনে নেওয়া কষ্টের পারাবার,
পার হওয়ার নেই কোন উপায়-
তবুও খুজে ফেরে চোখ কোন এক দ্বীপের আশায় ।
উত্তাল জলের মাঝে উন্মত্ত ঢেউ-
তবুও বেয়ে চলা এ জীবন তরী।

অব্যক্ত কথামালা শুকিয়ে যায় মনের গহীনেই,
নতুন সূর্যের আলো আসে পুরনো এ জানালায় ।
কপালের পোড়া টিপ ভিজে যায় ঘামে
শিহরন জাগে হৃদয়ের রুদ্ধ দ্বারে ক্ষণিকের তরে-
কোন এক অজানা অন্ধ আবেগে,
কিন্তু মুহূর্তেই শূন্যে হারিয়ে যায় সব।।

মিশে আছি তোমার অস্তিত্বে

বৃহস্পতিবার, ৩০ জানুয়ারি, ২০১৪

নয়নের নোনা জল মুছে ফেল প্রিয়-
মিছে কেন ফেলিছ ও শুভ্র আঁখিজল ?
চেয়ে দেখ ঐ নীল তেপান্তরে-
চেয়ে দেখ আকাশ পানে,নক্ষত্র বীথির পুঞ্জে পুঞ্জে-
এই তো আমি আছি তোমার চোখের আঙ্গিনায় ,
নিবিড় মায়ার বাঁধনে ।
তবে কেন মিছে খুঁজে ফের বারে বার।
কেন হৃদয়ের শূন্যতা ভাসাও দু চোখের মণিকোঠায়,
কেন গুমড়ে কেঁদে ওঠো -
কেন দীর্ঘশ্বাসে কাঁপাও বুকের পাঁজর ?
কেন অশান্ত করে তোল নিজেকে ?
একটু শান্ত হও অমৃতোপম ।
সন্ধার ঝিরি ঝিরি বৃষ্টি ধারায়-
স্নিগ্ধ সকালের লাজুক রোদে,হিমেল হাওয়ায়-
ঐ-শীতের কুয়াশায় কিমবা বকুল ফুলের ঘ্রানে-
আমি মিশে আছি তোমারই হয়ে ।
চোখ মেলে তাকিয়ে দেখ আর একটি বার ,
আমাকে খুজে পাবে-তোমার অনুভবের সীমানায় ।
হয়তো পাবে না একটু খানি স্পর্শ
কিন্তু অনুভবের অস্তিত্বে চেয়ে দেখ-
আছি,আমি আছি তোমার মুগ্ধতার আঞ্জামে,
একটুখানি চেয়ে দেখ-
আমি বেমালুম ভুলিয়ে দেব সব ব্যথা।
ভরিয়ে দেব তোমার অতৃপ্ত হৃদয় ।
নীরব অভিমানে নিজেকে গুটিয়ে রাখবে আর কত ?
কত বিষণ্ণতায় পূর্ণ করবে অন্তর্যামী?
প্রিয়, ব্যথার রুদ্ধ-বন্দি কক্ষে থেকনা বসে আর,
আলোর পানে ফিরে চাও ।
রাতের মৌনতার মাঝে একাকী হারায়ো না তুমি-
করো না বিষাদে অবগাহন ।
যে অভিমানে তুমি লুকায়েছ মুখ-
সে অভিমান কি নেই আমার ?
অন্তঃপুরের শুভ্র বাসনা কি কেবল তোমারি ছিল?
তা ছিল না আমার ?
নিজেকে কষ্ট দিয়ে কেন আঘাত করছ আমাকে,
আমার অশ্রুজল কি তুমি দেখতে পাও না ?
নিয়তির নির্মম পরিহাসে আজ আমি স্পর্শের বাইরে
এপার ওপার ভেদ করেছে অদৃশ্য এক প্রাচীর ।
কিন্তু আমি প্রতিটি ক্ষণে মিশে আছি তোমার অস্তিত্বে,
কেন মিছে ভাবছ তুমি একা ।
নিরঞ্জন ভালবাসার হয় না মৃত্যু,
মধুমিতা, অনুভুতির চোখ মেলে চেয়ে দেখ ।
আমি আছি তোমারই পাশে,থাকব অনন্ত কাল ।