নিভে যাওয়া নগরীর বুকে

শুক্রবার, ৩১ জানুয়ারি, ২০১৪

নিভে গেছে নগরীর সব আলো, নীরব-নিথর-নিস্তব্ধ চারিদিক-
মৃদু কান্না-হাসির শব্দ এসে থেমে গেছে বিষণ্ণ এ জানালায়,
পৃথিবীর ক্লান্ত বুকে শুধু ধ্বনিত হয় ভারি নিঃশ্বাসের শব্দ-
বেদনার প্রবাহিত নদীর কলকল জল ধ্বনি আর কূল ভাঙা আর্তনাদ।

ধূসর পাণ্ডুলিপি আর ডায়েরির পাতাগুলো ভিজে হয় একাকার-
যেখানে গড়া ছিল অতীত-বর্তমান-ভবিষ্যতের সেতু বন্ধন ।
মৃত্তিকার গোপন গহব্বর থেকে অঙ্কুরিত বীজের দুর্বল হাতছানি,
সেখানে ভীড় করে কুয়াশার তরঙ্গ আর অচেনা অস্পষ্ট আলো ।

স্পষ্ট আলোর অপেক্ষায় পৃথিবীর ধূলিকণা,ঝরা পাতার কাব্য,
নীলাভ স্বপ্নের ভগ্ন বুকের স্পন্দন লুটায় ব্যকুল ব্যথার পদতলে।
অনাকাঙ্ক্ষিত মুহূর্তগুলো ভিড় করে নতুন উন্মাদনায়,প্রফুল্ল চিত্তে,
নিঃসঙ্গ মলিন ব্যথিত মুখে শ্রাবণের আধারিত নিকষ কালো মেঘ।

ক্ষুধার্ত হাহাকার,আহত অন্ধকার ঘুমিয়ে পড়ে শান্ত হয়ে আকাশ ছুঁয়ে ,
অভিমানী নক্ষত্রপুঞ্জ হারিয়ে যায়-ক্ষীণ বাতাসে, প্রবল মৌন আঘাতে।
দ্যুতিহীন নগরী শুধু দাঁড়িয়ে থাকে বেদনার একান্ত ব্যথিত সাথী হয়ে-
একে একে বন্ধ হয় সব কটা জানালা, সিঁড়ি,চিলেকোঠার অনুপ্রবেশ দ্বার ।

অনন্ত বাসনার পেয়ালা পূর্ণ হয় দুঃখ আর বিষাক্ত তরল সায়ানাইডে ,
অন্তঃপুরে ঝরা ফুল,অলস মন্দির, নগ্ন হাত আর প্রেতাত্মার ছায়া।
নগরীর পথে পথে পড়ে থাকে ধূলিকণা আর ঘুম পথে ভগ্ন স্বপ্নের স্তুপ,
শূন্যতার অপূর্ণ তৃপ্তি আঁকড়ে ধরে আমায়, নিভে যাওয়া নগরীর বুকে।

0 মন্তব্য(গুলি):

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন