আত্মকথনের কবিতা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
আত্মকথনের কবিতা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

ক্ষুদ্র আমি ক্ষীণজীবী এক মানুষ

মঙ্গলবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৪

মানুষ! মানুষ আমি, ক্ষুদ্র আমি ক্ষীণজীবী এক মানুষ,
ক্ষণিকের তরে ক্ষীণ আশা লয়ে এসেছি এ ক্ষণিকালয়ে।
খরশাণ সময়ের মধ্যাহ্নে খণ্ডিত কাব্যে দেখি শূন্য খতিয়ান
তবুও রুদ্ধশ্বাসে গতিশীল জীর্ণ জীবনের রক্ত স্রোত,
আমি ভাসি সেই স্রোতে-
গাড় নিঃশ্বাসের তীব্র উষ্ণতা উপেক্ষা করে আমি ভিজে যাই।
দেখি- মুক্তির আশায় ছিটকে পড়েছে গলন্ত তরল এসিড,
আশা, প্রত্যাশা কিংবা স্বপ্ন তাই বিলীন হয়েছে নিরাশায়।

হায়! অন্ধ পৃথিবী, অন্ধ আজ লক্ষ কোটি সজাগ দৃষ্টি,
ভেঙ্গে গেছে সব দর্পণও, কোথাও তাই প্রতিবিম্ব নেই।
যে জলে এতদিন দেখেছি নিজের ছায়া তাও আজ ঘোলাটে
মুখোমুখি দাঁড়িয়ে শুধু ভাঙ্গা ঘুম, ক্লান্তি আর ব্যর্থ দীর্ঘশ্বাস,
এখানেই বসবাস আমার-
চারিদিকে ক্ষুধা,তৃষ্ণা, বিতৃষ্ণা, মৃত্যুর ভয়, এই নাকি জীবন।
ভগ্ন প্রণয়ের সম্মুখে দেখি অস্তিত্ব, তবে তাও সংশয়ে ঘেরা,
তবে কি ভারসাম্যহীন বুকের পাটাতন অসার, বন্দী আবেগ।

হাহুতাশ! না না আমি অপারক তাতে, প্রকাশে দ্বিধাহীন,
রঙ্গিন মলাটের আড়ালে গুটিকয়েক কালো অক্ষরের কথা বলি।
ওরাও জানে ন্যাকামি, বিরিক্তিকর আদিখ্যেতা, তাই এত ঘিঞ্জি
তবুও কেটে কুটে লিখে যাই ফের, বেড়ে যায় পৃষ্ঠা, ব্যথাও,
এভাবেই কেটে যায় দিন-
কেটে যায় জীবনের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র মুহূর্তগুলো, যেন ভাবলেশহীন।
দেখি-সম্মুখে প্রসারিত পথ, আলো-ছায়া, অন্ধকারের খোলস,
ভাবি ক্ষণজন্মের ইতিকথা, ক্ষুদ্র আমি ক্ষীণজীবী এক মানুষ।

চোখে আঁকা উড়ন্ত এক সাদা বকের ডানা

রবিবার, ১০ আগস্ট, ২০১৪

আমি দিকভ্রান্ত-
তুমি জেগে আছ চাতকীর মত ঐ দূর আকাশ সীমায়,
আকাঙ্ক্ষা, আক্ষেপ, হতাশার ছুটি কবে জানা নেই কারও-
শুধু চলেছি আমি, আর তুমি তাকিয়ে রও অপলক।

নিত্য বাতাসের লুকোচুরি দেখেছি আমি বেখেয়ালি মনে,
শুনেছি ঝরা পাতা, নক্ষত্র, শিশিরের বেদনাসিক্ত গান-
অলস মাটির করুণ তিয়াসি সুর,ঐ অরণ্যের হাহাকার ,
আমি দেখেছি পিচঢালা রাস্তায় দুঃখ, মলিন ল্যম্পপোস্ট-
ডানা ভাঙ্গা শালিকের বিষণ্ণ চোখে ভয়, বাঁচার আকুতি,
ধুলো মাখা পথে পড়ে থাকে স্মৃতির শৈশব,সুখ,স্বপ্ন,আশা।

আমি হেঁটে যাই-
চিরচেনা গলি ছাড়িয়ে অন্য পথে, অন্য জীবনের পানে-
যেখানে তুমি কিংবা তোমাদের কোন ছায়া নেই এতটুকুও,
নেই- অনুভবে অপ্রত্যাশিত আঘাতের কোন ক্ষত চিহ্ন।

নিদারুন কষ্টের রেখা ডিঙিয়ে আমি চলে যাব বিরতিহীন-
চলে যাব কোন এক বিচ্ছন্ন দ্বীপে, যেখানে কোন সূর্য নেই,
অন্ধকার সে দ্বীপে আলো দেবে নির্ঘুম জোনাকির দল -
নীল আলোয় ভরে যাবে চারিপাশ, উন্মুক্ত নীরব জলরাশি,
শুধু আমাকে ছোঁবে না জোনাকি, সে নীল আলোর রশ্মি-
কেননা আমার চোখে আঁকা উড়ন্ত এক সাদা বকের ডানা।

জানিনা কতটা পথ আর বাকি

বৃহস্পতিবার, ১৯ জুন, ২০১৪

আর কতটা পথ এগুলে মিলবে গন্তব্য ঠিক জানিনা-
তপ্ত রোদে পুড়েছে মুখের আঙ্গিনা, পায়ে ধুলোর চিহ্ন,
আকস্মাৎ চিড় ধরে নগ্ন মাটির বুকে, আমি তাকিয়ে দেখি-
আমি বিলাপ করি, হৃদয়ে আরও স্পষ্ট হয় দুঃখবোধ।
আমি চিৎকার করি- শুনতে পায় না কেউ, শুধু প্রতিধ্বনি জানিয়ে দেয়-
অমীমাংসিত অধ্যায়ের শেষ অনুচ্ছেদ।

কোন কথোপকথন নেই, নেই স্থিরতাও-
অস্থির, চঞ্চল, নির্দ্বিধায় শুধু একা একা পথ চলা,
কাল্পনিক সেই সময় হয়তোবা অধরা, মিথ্যে উপাখ্যান,
বুকের পাঁজরে জমেছে পচা প্রেম, তাই শোকও বিক্ষিপ্ত।
হাতের বক্ররেখা আমাকে চালিত করে ভ্রান্ত পথে, আমি হই দিকভ্রান্ত পথিক-
বুঝি জীবনের ব্যর্থতার সরল সমীকরণ।

কাঙ্ক্ষিত স্বপ্ন আমাকে কুরে কুরে খায় তাই-
মাঝে মাঝে পালাবার পথ খুঁজি গন্তব্যহীন দিক্বিদিক,
আমি মুখ লুকায় আঁধারে, দেখি সম্মুখে বিবস্ত্র মনুষ্যত্ব বোধ,
ভিখারির মত আমি ফিরে আসি তবুও করি মিথ্যে অভিনয়।
শুভ্রতার অভিশাপ আমাকে পোড়ায় ভীষণ, আমি ক্ষতবিক্ষত হই সর্বাঙ্গ জুড়ে-
তাই অনুভবে মিশে থাকে শুধু দগ্ধ যন্ত্রণা।

কখনোবা দৃষ্টি নিক্ষিপ্ত হয় আমার ছায়ামূর্তির দিকে-
যেখানে বন্দী আমি, যেখানে আমার আজন্ম বসবাস।
আমি ফিরে তাকাই শূন্য বাতাসে, অপলক অবাক নয়নে,
আমাকে জাপটে ধরে হতাশা, জন্মান্তরের সঙ্গায়িত শূন্যতা।
নিকষ কালো রাতের একাকীত্ব আমাকে সঙ্গ দেয় উজ্জ্বল দিনের আলোতে-
আমি কথা বলি মৃতপ্রায় মানুষের মত।

তবুও বাঁচার গর্বে বার বার আত্মহারা হই-
বাণিজ্যিক ঋণ শোধ-পরিশোধের অংক কষি।
স্পষ্ট অস্পষ্ট স্বাক্ষরে মেটাতে চাই সব দেনা পাওনা-
জীবনের ক্ষুধার্ত যত অভিলাস।
আর কতটা সময়,আর কতটা পথ এগুলে মিলবে গন্তব্য ঠিক জানিনা -
জানিনা কতটা পথ আর বাকি ।

আমি বিদায়ের কথা বলি

বুধবার, ২ এপ্রিল, ২০১৪

বেঁচে থাকার অদম্য সেই আকুলতা আজ আর নেই এতটুকুও-
ফুরিয়ে গেছে সব চাওয়া পাওয়া, প্রত্যাশায় বোনা রঙ্গিন স্বপ্ন।
অগচরে ফুরিয়ে গেছে নিজের প্রয়োজন যেন নিজের কাছেই,
তাই- মনে জাগে বিতৃষ্ণা, বিদায়ের তীব্র আকাঙ্ক্ষা, স্বাদ।
প্রদীপের পাশে ঘুরে ঘুরে মৃত্যুর ক্ষণ গোনে ক্ষুদ্র পোকার দল-
আমি তাকিয়ে দেখি। আমি খুঁজে ফিরি আঁধারে মৃত্যুর আলো।

পড়ে থাকে বাঁশি, হারিয়ে যায় সেই বাঁশরীর সুর, লয়, টান-
কাব্য কথারা হারিয়ে যায় ঠাস বুনটের অভিমানী মেঘলা দুপুরে।
আমি অবাক চোখে দেখি অস্ত সূর্য, ভেজা সলতের ভগ্নাংশ,
বুনো ফুল ঝরে যায় গহীন অরণ্যে, মনে জেগে ওঠে বিরহ-ব্যথা।
নৈশব্দে নিভৃতে ছুটে চলে স্বচ্ছ জলস্রোত নীল চোখের মণিতে,
আমি ভেঙ্গে চুরমার হয়ে গড়ি-হাহাকার, বীভৎস ধ্বংসের স্তূপ।

ফেরারি পাখির মত জীবন নিয়ে আজ খুঁজে ফিরি নিরাশা
অন্ধ আঁখির মত ডানা মেলে উড়ে যায় মন নিকষ আঁধারে।
ক্লান্ত শ্রান্ত দেহে নামে না নোনা ঢেউ, বান আসে নীল বিষের,
নক্ষত্রের অভিশাপে জ্বলে অন্তর, ভেঙ্গে যায় সব অভিলাস।
নিরন্তর ছুটে চলার মাঝে নেমে আসে বিশ্রামের উন্মত্ত ঢল,
নিদারুণ উপেক্ষায় ভুলে যাই ক্ষণ গন্তব্য, সুনিবিড় পান্থশালা।

আমি বিদায়ের কথা বলি, তৃষালু নয়নে আঁকি অগ্নিশিখা,
আমি এই পৃথিবীকে জানাতে চাই চির বিদায়ের সেই বানী।
হয়তো কেঁপে উঠবে মাটির বুক, আমার শরীর সোফার্দে,
হয়তো জ্বলে উঠবে আগুন চিতার কাষ্ঠে, হয়তোবা ঐ -
ক্ষুধার্ত শকুনের হবে উৎসব আয়োজন এর বেশি কিছু নয়।
বয়ে যাবে বাতাস, বয়ে যাবে নদী, সাগর সব আগের মতই।

নক্ষত্রগুলো জ্বলে জ্বলে নিভে যাবে আবার রাতের আকাশে,
নিতান্তই অনিচ্ছায় শুধু দিন গুনে গুনে ক্লান্ত হবে মহাকাল।
দ্রাঘিমা অক্ষাংশ কিমবা বিষুব রেখায় ভেসে ওঠে ক্লান্তির ছায়া,
হয়তো সমুদ্র পৃষ্ঠ হতে ভূপৃষ্ঠে অঙ্কিত হবে মলিন বিষণ্ণতা ।
জানি আমি-জানি হবে না দেখা আর রক্ত রাঙ্গা নতুন সকাল,
ঝরা ফুল হয়ে পড়ে রব অবহেলায় ধুলো মাখা মৃত্তিকার কোলে।

- আংশিক প্রকাশ।

প্রবীণদের সমাবর্তন বক্তৃতা আর আমি

মঙ্গলবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৪

প্রবীণদের সমাবর্তন বক্তৃতার মর্মার্থ এখন ভাবায় আমায়, তাই-
সময়ের স্মৃতিচারনের  মাঝে ভেসে ওঠে আমার সত্য বর্তমান।
সমাধান চাই! তবুও ভুলের সাথে নিত্য বসবাস এই অপরাধীর,
উপেক্ষিত হয় বানী তারপর অনুশুচনার সাথে হয় সৌজন্য সাক্ষাত।
এই এতটুকুই ! তবে কি ভাবনাগুলো বুকে জমে ওড়াবে না পতাকা?
ক্ষমাশীলতাকে ধারনে প্রবীণদের সাথে আমি নিজেও বলেছি বহুবার-
ক্ষমা পরম ধর্ম। আমি হতে চেয়েছি ক্ষমাশীল, নিঃস্বার্থ মানুষ-
কিন্তু পারিনি, পারিনি আমি আজও।
 
আমি হতে চেয়েছি ত্যগি, দিতে চেয়েছি অহমিকা, হিংসার বিসর্জন,
চেয়েছি আজই সুচনা হোক উন্মুক্ত জ্ঞানের দীপ্তাংশু বিচরন।
খুলে যাক সব বদ্ধ দুয়ার, আত্মকেন্দ্রিকতার ঐ শক্ত ব্যপ্ত জাল,
নিরঙ্কুশ ভালোবাসা উড়াতে চেয়েছি মাটির বুক হতে অন্তরীক্ষে।
ছড়াতে চেয়েছি পৃথ্বীতলে স্বর্গধামের ঐ নেশাময় কাঞ্চনের সুগন্ধি,
শত বিচ্ছেদ ব্যথা ভুলে চেয়েছি প্রনয় পঞ্চবর্ণের মুগ্ধতার বাঁধন।
আমি চেয়েছি মুছে যাক ঘৃণা, ঘৃণ্যতার স্বরলিপি,পচা- নষ্ট ইতিহাস,
স্বপ্ন হোক সত্য, রুপান্তরিত হোক নেক ইচ্ছা - বাস্তবতায়।

আমি চাই মনে প্রানে কিন্তু অপরিণত বয়স আমাকে বিক্ষিপ্ত করে,
অনুভুতির বাঁধন ছিঁড়ে আমি আশ্রয় খুঁজি নিষিদ্ধ সময়ের কোলে।
উপার্জিত উপলব্ধি বেমালুম হারিয়ে যেতে চায় নগ্ন অন্ধকারে,
এই নষ্ট সময় করতে চায় আমার মস্তিস্কের চিন্তার শিরচ্ছেদ ।
তবুও আমি যেতে চাই স্রোতের বিপরীতে ভাঙ্গাচোরা মাস্তুল হাতে,
কেননা মনুষ্যত্বের কথা আমি শুনেছি অগণিত প্রবীণের কণ্ঠে।
তাই প্রবীণদের সমাবর্তন বক্তৃতার মর্মার্থ এখন ভাবায় আমায়,
আত্মগ্লানির উপাখ্যান মুছে আমি গড়তে চাই আমার সত্য বর্তমান।


এ আমার একান্ত ব্যস্ততা, নিরেপেক্ষ খেলা

মঙ্গলবার, ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৪

কোন জয় নেই, কোন পরাজয় নেই, তবু খেলে যাই আমি-
ধোঁয়া নিয়ে এ আমার একান্ত ব্যস্ততা, নিরেপেক্ষ খেলা।
আমি হাসি,আমি কাঁদি, আমার ভাবনার আকাশ হয় ধোঁয়া,
ধোঁয়ার মাঝে বৃত্তর মাঝে দেখি আমার শৃঙ্খল,বিশৃঙ্খল পৃথিবী।
আমার পৃথিবী বিলীন হয় উদাসী বাতাসের আনমনা নৃত্তে,
চাতকের মত দৃষ্টিবিদ্ধ আমার অনিয়ন্ত্রিত অনুভুতির আকাসে।
বিষাক্ত নিকোটিনের গন্ধে আমি আবিষ্কার করি বিশুদ্ধ ভালোবাসা,
নৈঃশব্দের মাঝে আমি খুঁজি প্রেম তরঙ্গ- দোলায়িত মস্তিষ্কে।
অক্রিত্তিম আগুন হাতে নিয়ে আমি স্বপ্ন দেখি, আঁকি আল্পনা,
আমি মায়া খুঁজি দুঃসময়ের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে ভাঙ্গা বিশ্বাস নিয়ে
জানি আনাড়ি কবি আমি,হাতে কিমবা মুখে নেই মুগ্ধতার লেশ,
বিদীর্ণ মুখের আঙিনায় বাসা বেঁধেছে আজ হতাশা, মৃত আবেগ।
যদিও নির্দোষ আমার চোখ, আমার দৃষ্টিতে পরিপূর্ণ শুদ্ধতা তবুও-
হৃদয়ে জমা অনুপুঙ্খ আমাকে পোড়ায় ভীষণ,তাই জ্বালা করে চোখ।
চোখ রগড়ে আমি দেখি ভাঙ্গা নৌকা, ছেড়া পাল, ঠুনকো বৈঠা,
আমি পারি না বাইতে আর, ধেয়ে আসে বর্ষার মেঘ,বেদনার প্লাবন।
অশ্রুসিক্ত নির্ঘুম রাত,রৈদ্রদগ্ধ দুপুরে স্ফীত ব্যথা আমাকে দেয় নির্বাসন,
আমি ধোঁয়া নিয়ে খেলি একাগ্র চিত্তে নির্বাসনে একা।

মনে বিবর্ণতার মহাদেশ

শনিবার, ১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৪

ব্যস্ত নগরীর বুকে আজ আমি নির্বাসিত –
যাপিত জীবন আর আপন স্বত্বা বিপ্রতীপ,
কাঙ্ক্ষিত স্বপ্নের খুব কাছাকাছি আমার বসবাস,
তবুও, দীর্ঘশ্বাস রাখতে পারিনা আর লুকিয়ে।
আজ আমি নির্বাক,অসহায়,পরিত্যাজ্য,
হাজারও মানুষের ভিড়ে আমি বড় একা ।
নন্দিত নরকের নগ্ন আগুন আমার দুচোখের আঙিনায়,
নিরজন এই হৃদয় অরণ্যে ডাকে না আর কোন পাখি।
হয় সম্মত সম্ভাষণ,সম্ভোগ,সম্মিলন-
তবুও নিজেকে খুঁজে পাই নিরেট পাথরের ছায়ায়।
চিরাচরিত নিয়মে চলছে কালের দোলায়িত পেন্ডুলাম,
চলছে রঙের মিছিল-রঙমহলের ভিতরে ও বাইরে।
স্বরূপে ফিরে আসে না আর সাদা বক, সাদা ফুল,
ধূর্ত কাকও প্রতারিত হয় , ঠোঁটে লেগে থাকে শুধু রঙ।
সবই মিথ্যে, বিষাক্ত, হারিয়ে গেছে সব শুদ্ধতা,
আমিও দাড়িয়ে আছি বুকে রঙ মেখে,মনে বিবর্ণতার মহাদেশ।

হৃদয়লোকে মলিন বিশ্বাস,চোখে বিষাদগ্রস্ততা

শুক্রবার, ৩১ জানুয়ারি, ২০১৪

আজ আহত আমি তীক্ষ্ণ বিলাপে,প্রচ্ছন্ন বেদনার নীল তরঙ্গে,
প্রতীক্ষার পালা শেষে আমার মুঠো ভরা কষ্টের ধুলোমাটি।
কেবলই দুর্বলতা ভেবে পদদলিত হয়েছে নিঃস্বার্থ উদারতা,
ভাবনার আকাশে তাই দেদীপ্যমান আজ দুখের নক্ষত্র।
অহর্নিশ ভালোবাসাও অন্ধকার দেয়ালে নীরবে মিশে গেছে,
কোন অনুরাগে নয়,রক্তাত্ত হৃদয়ের ক্ষতে জ্বালা ধ’রে।
স্বপ্নগুলো অবলুপ্ত আজ,ব্যথিত চিত্তে জাগে অগ্নি-নোনা ঢেউ,
অনুসন্ধিৎসু মনের প্রকাশে তাই ব্যাবচ্ছেদ হয় হতাশার।
ধুপগন্ধহীন অনুভূতি জ্বলে জ্বলে নিভে আবার জ্বলে ওঠে,
দুরাকাঙ্ক্ষা ভেবে ফিরি পশ্চাতে তবুও ধেয়ে আসে যন্ত্রণা।
নিষ্প্রতিভ সুখের আঙ্গিনায় জমে জমে আরও ঘন হয় মেঘ,
অক্রিত্তিমভাবে পূজনীয় নীতি লুকিয়ে রাখে মুখ পরাজিত হয়ে।
অতৃপ্ত আত্মা বারংবার আহত হয়ে-দুমড়ে সংকচিত হয়,
ব্যস্ত রাজপথে তাই বুজে আসে চোখ একাকীত্বের গ্রাসে।
পড়ে থাকে ধুলো মেখে অন্তঃযাত্রীর অন্তিম ইচ্ছে গুলো,
দেহন্তরিত অনুভবে মিশে থাকে শুধু তার ধুসর-কালো ছায়া।
মর্ত্যলোকের বীভৎস বাস্তবতায় ছিন্ন-ভিন্ন হয় শুভ্র বাসনা,
হৃদয়লোকে থাকে শুধু মলিন বিশ্বাস আর চোখে বিষাদগ্রস্ততা।

শুধু আমার ছুটি নেই

হারিয়ে গেছে সেই রংধনু আকাশ,নভঃপ্রাণ,রাত্রিমণি,ছেড়া মেঘ,রোদ্দুর
প্রহত ধুলোমাখা পথে নির্বিকার মিশে আছে সেই সব স্মৃতির পসরা।
আজ কুড়িয়ে নিলাম দুহাতে। কিছু ললাটে নিলাম মেখে-অর্ঘ ভেবে ।
অলীক কল্পনায় নয়,যা ছিল সত্য হয়ে অর্হনীয় অভিধানে ।
শোভিত বর্ণের বরণীয় অনুগল্পের তাজা প্রানের চিলেকোঠায় যা ছিল-
অবয়বশূন্য হয়ে কম্পিত,জাগ্রত অনুভূতির বাহুডোরে। আজ বুঝি আমি-
জয়ন্তী বৃক্ষের শাখা প্রশাখা শুকিয়ে গেছে সব,শুধু জীবন্ত তার মূল,
মুমূর্ষ প্রানের স্পন্দন ধ্বনিত হয় শুধু নিশ্চুপ মৃত্যুর আলিঙ্গনে।
ঈষদুষ্ণ সেই মাটির বুকে আজ দাড়িয়ে দেখি আমি ।অবিসংবাদী সেই-
বেদনাগুলো অশ্রু হয়ে এসেছে চোখের পাতায়, কিছু ব্যকরনহীন হয়ে-
পড়ে আছে বুকের অরণ্যে।যেখানে কোলাহল নেই,নেই ঢেউয়ের গর্জন।
অরুনলোচনে বাসা বাঁধে অরুনসারথী,অর্চিত ধুলো মেখে কাটে অর্ধ বেলা ।
কর্ণকুহরে আন্দোলিত হয় নূপুরের নিক্বণ।আমি শুনে চমকিত হই,
তারপর দেখি শূন্য প্রান্তর। যেন ছুটি নিয়েছে সবাই। শুধু আমার ছুটি নেই।

ব্যথা ক্রন্দন লেখা ললাটে

ঐ অম্বরে ওঠে গম্ভীর সুর,অন্তরে খেদ বিষময়,
যাপিত জীবন জ্বালাময়,চোখে জল আমি অসহায়।
ফের ক্রন্দনে আসে অমানিশা,ঘোর আঁধারের ঘোর ঘোলাটে,
ছিঁড়ি বন্ধন প্রেম বেদনায়, ব্যথা ক্রন্দন লেখা ললাটে।
মধুকুঞ্জের মোহে মধুকারী হয়ে আর রইব না নেশাতুর,
ত্রিনয়নের নেশা মিটাব নিশীথে, বাঁশিতে উঠায়ে সুর।
নাদী-নাদিনীর নাদিত নাদে নন্দিত নাটমন্দির,
দোলে দৈব, দহদী দোসর, দুতিময় দেহ শশধির।
ছুটেছে ত্রিকাল,ত্যজিত তুরগ , তুফানী হাওয়ার তুর্ণি,
মহানন্দের মহড়ায় দেখি-মহাপাতকের চোরা চূর্ণী ।
ঐ লেলিহান লগ্নে লুটায়- লক্ষ লোহিত লুপ্ত প্রান,
শ্রী-বিশ্রী,শ্রাব্য কাব্য পড়ে থাকে শেষে শ্মশান-শ্যাম।
আমি তো আমার, তবু আমার আমিতে রইব না আর বন্দী,
জীর্ণ এ মনে,নব প্লাবনে-ভাসাব সুখের গণ্ডি।
তিমির রাত্রি,বাতি জ্বেলে আমি জেগে থাকি আশা লয়ে,
আসিবে প্রভাত,নিভে যেয়ে রাত- পাখিদের সুরে সুরে।
তবুও কাটে না আঁধারের ঘোর, ফের আকাশেতে মেঘ জমে,
নেচে নেচে ওঠে –নোনা নয়নের জল, বেদনার আঞ্জামে।
শীতল বুকের পেয়ালা ভরেছে-বুদ বুদি দুখ জলে,
উনুনের চেয়ে উষ্ণ হয়েছে- ভাঙ্গা পাঁজরের দাবানলে।
কণ্টকে ভরা কুসুমিত মন, রেনুতে রক্ত বিষ,
ফোটে পঙ্কজ মন সরোবরে, ঘৃত ঘ্রানে-প্রানে তব অনিমিষ ।