বাস্তবময় কবিতা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
বাস্তবময় কবিতা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

অন্য সমীকরণে দাড়ায় চলমান জীবন

রবিবার, ৬ জুলাই, ২০১৪

দোলাচল! যৌগিক জীবনে সত্য মিথ্যার দোলাচল,অকারণ দ্বন্দ্ব,
শোক-তাপ, আনন্দ-হাসির মিশ্র প্রতক্রিয়া-সংজ্ঞাহীন কাব্য।
জাগতিক সভ্যতা আর নির্বোধ ইচ্ছে চলে অন্য নিয়মে,ভ্রান্ত পথে-
আর অন্য সমীকরণে দাড়ায় চলমান জীবন-প্রাণময় খণ্ড গল্প।
তবুও চলছে জীবন, বেঁচে থাকার আকুলতা, সৃষ্ট স্বপ্ন-আশা,
ভগ্ন আশার পুরনো দেয়াল ধরে দাড়িয়ে থাকে প্রচেষ্টার ছায়ামূর্তি।
প্রদাহ বাড়ে স্পর্শকাতর অভ্যন্তরে নিষ্পেষিত সুখের মর্মকথায়,
দুচোখের গভীরে তাই আশ্রয় নেয় বোবা নক্ষত্র, মৃত প্রেমের ছায়া।
হয়তো আজ প্রতিষ্ঠিত-রঙের আঁচড়ে আঁধারিত জীবন ক্যানভাস-
তবুও-জীবন ঠিকই মেঘবর্ণ,ঘোলাটে জলের অন্তহীন মহাকাব্য।
অন্ধত্ববোধ চুরি করেছে আলো, চারিদিকে বেখায়ালি অন্ধকার,
অন্ধ আঁধারের কান্না ভিজিয়ে দেয় রঙ মাখা আলো, নতুন ভোর।

দোলাচল

শনিবার, ৩ মে, ২০১৪

এখানে লাশ, ওখানে উল্লাস, যেন দ্বৈত দৃশ্যের অবতারণ,
কোথাও ব্যস্ততা, কোথাও নিরবতা, কোথাও-বা আর্তনাদ।
মাতাল প্রচেষ্টা, আকাঙ্খা-আক্ষেপ, নিয়তির নির্ণেয় ব্যর্থতা-
অস্বস্তিবোধ আবার স্বস্তির নিঃশ্বাস যেন ভগ্ন সরল ব্যকারন।
কখনও প্রত্যাশিত আবার কখনওবা অপ্রত্যাশিত ঘটনা-
বাতাসে দোলে সত্য-মিথ্যার পেন্ডুলাম, ক্ষয়িষ্ণু ক্রান্তিকাল।
মার্জিত-অমার্জিত ভাষা কিংবা অপভাষায় বিদ্ধ সম্পর্ক -
ধুলো মাখা রাস্তায় পড়ে থাকে ঝরা পাতা, ভেজা জোছনা।
-আংশিক প্রকাশ।

আমি ভালো আছি

রবিবার, ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৪

আমি ভালো আছি এ আমার সৌজন্য বোধের ব্যক্ত কথা,
আস্তাকুরে চলা জীবনের মাঝেও সরব কণ্ঠের মিথ্যাশ্রয়।
হৃদয়ে হৃদয় রেখে কে শোনে পরাজয়ের গ্লানির ধ্বনি কিমবা প্রতিধ্বনি,
কে শোনে ভাঙ্গা পথে শপথ ভাঙ্গার কান্না, গুমড়ে কাঁদা আর্তনাদ।
আলো আঁধারের আসা যাওয়ার মাঝে যে আঁধারের বুকে বন্দী-
সেও দিনের আলোতে দৃশ্যমান, মুখে তার ক্রিত্তিম হাসি।
নিষ্ঠুর নিয়তির কাছে যে অসহায়, যে অনাদরে সাজায় দুখের বাসর-
যে যন্ত্রণা বুকে নিয়ে পুড়ে পুড়ে অংগার, সেও মুখে অবলীলায় বলে-
আমি ভালো আছি।

ব্যস্ত সবাই শুধু নিজেকে নিয়েই নিজের গড়া পৃথিবীর প্রান্তরে,
কে শোনে আন হৃদয়ের হাহাকার,দগ্ধ বুকের অগ্নিবীণা সুর,বানী।
নীরব প্রানের নীরব ব্যথা শুধু নীরবেই জ্বলে জ্বলে নিভে যায়,
যে পাখি বেঁধেছিল বাসা পাঁজরের নীড়ে সুখে সেও চলে যায় নীরবে।
পড়ে থাকে ছিন্ন পালক জীর্ণ বিরানভূমির আঙিনা জুড়ে তা-
দেখে না কেউ। রৈদ্র-জলে ভিজে পুড়ে হয়তো আজ তা মলিন।
যার যন্ত্রণাগুলো আজ ভারি নিঃশ্বাসের সাথে বের হয়ে বাতাসে ভেসে বেড়ায়-
সেও গ্রহন করে সেই বাতাসের অক্সিজেন। বুক ভরে শ্বাস নিয়ে বলে-
আমি ভালো আছি।

অপেক্ষার প্রহর গুনে গুনে কালি পড়া চোখে যার আজ ঘুম আসে-
সেও স্বপ্ন দেখে, ঘোরের মাঝে বলে ওঠে আমরা স্বপ্নচুড়ার প্রহরী।
আমাদের বাসর হবে সুখ রঞ্জন ছোঁয়া আবেগী শিশির মেখে,
আধো ঘুমে যখন পৃথিবীর সবাই তখন আমরা শ্বাপদের মত নিশাচর হব।
টুকরো টুকরো শুভ্র জোছনায় ভিজে ভিজে আমারা ছুঁয়ে নেব শীতল অনুভূতি।
আমরা ছুঁয়ে দেব পৃথিবীর এ প্রান্ত হতে অপর প্রান্ত হাতে হাত রেখে,
কপালে এঁকে দেব প্রনয়ের প্রত্যয়, নিখাদ ভালোবাসার অস্পষ্ট চিহ্ন।
উদাসী নদীও জানে তা কতখানি মিথ্যে, দুঃস্বপ্নের মরিচিকা,
ভাঙ্গে ঘুম, ভাঙ্গে স্বপ্ন দুঃস্বপ্নের অবরন, স্মৃতির আয়নায় ভাসে মুখ।
নিজেকেই মনে হয় চির অচেনা তবুও সেও মুখে বলে-
আমি ভালো আছি।

অভাব গোপন করে যে বলে এইতো বেশ আছি ডাল ভাতে, সাধারন পোশাকে-
নাইবা পেলাম আভিজাত্যের মোড়ক, সোজা সাপটা জীবনই-
আমার ঢের ভালো । যে হয়তো দিতে পারেনি তার প্রিয় মানুষকে-
শখের উপহার, সেও ভালো থাকে তবে তা মিথ্যে সান্ত্বনায়।
যে জন্মপরাজিত সে জয়ী হবেই বা কিভাবে , নিত্য সঙ্গী তার নিষ্ঠুর নিয়তি,
শুধু প্রতীক্ষায় কেটে যায় অমূল্য দিনগুলি আশায় বুক বেঁধে।
হয়তো একটু সহানুভূতির মাঝেই খুঁজে ফেরে সুখ শত দুখের মাঝেও,
বেদনা অশ্রু হয়ে এলে লুকিয়ে তা নিমেষেই সেও বলে সব জড়তা ভেঙ্গে-
আমি ভালো আছি।
   
ভালো থাকা কি লৌকিক নাকি অলৌকিক আশ্চর্যের বিষয় নাকি সত্য?
নাকি এ কেবলই আপেক্ষিক, উপেক্ষিত কষ্টের শিলালিপি?
যে জানে না এসব কিছুই হয়তো সে অল্পতেই তুষ্ট,ভালো আছে সে,
তবে সে কি অবুঝ? সে কি শিশু? নির্বোধ? নাকি সে উন্মাদ?
আমি দেখেছি ঝরা ফুলও সুবাস বিলায়, আবার তা পিষ্ট হয়-
যে পাখি গান গেয়ে যায় সুখের  শুধু সে-ই জানে তা কতখানি সন্ত্রস্তের।
নিরন্তর ছুটে চলা জীবনের মাঝে যে স্বকীয়তা হারিয়ে ক্ষণে ক্ষণে-
বদল করেছে রং, করছে অভিনয় প্রতিনিয়িত, সেও বলে-
আমি ভালো আছি। 

প্রশ্নটা কতটুকু মুলক, অমুলক কিমবা প্রয়োজনীয় নাকি অপ্রয়োজনীয়-
তার কিছুই হয়তো আমি জানি না। তবুও এসে যায় বার বার মনে-
এই অনিশ্চিত জীবন-মৃত্যুর মাঝামাঝি দাড়িয়ে আমরা কি চাই, কি পাই আর -
কি অপূর্ণতা। নাকি এ প্রশ্ন কেবলই অবান্তর?
এই মিথ্যে সুখের মাঝে  অগনিত স্বাদ-বিস্বাদ কিমবা বিষাদে-
কেটে যাচ্ছে জীবন, জীবনের দিনগুলি একে একে তবুও বেঁচে আছি-
হয়তো এই-ই বেশি। কত কিছুই বলতে চেয়ে তা পারিনি,বিক্ষিপ্ত মনে ব্যথা ওঠে।
দেখি পথের শেষ সীমা সম্মুক্ষে,আজও কিছুই করা হয়নি শুরু তবুও বলি-
আমি ভালো আছি।

ভালো আছি আমি,আমরা,আমরা সকলেই বলে যাচ্ছি তা অবিরত,
উপরে রঙ্গিন ব্যণ্ডেজে মোড়া পরিমার্জিত কিন্তু ভিতরে জ্বালা, ভিতরে ক্ষত।
ঘাত প্রতিঘাত দুঃসহ যন্ত্রণায় কাতর মানুষও বলে আমি ভালো আছি,
যুদ্ধের অবসানে বিদ্ধস্ত শরীর নিয়ে বিজয়ী যোদ্ধাও বলে আমি ভালো আছি,
রৈদ্রদগ্ধ হয়ে ঘামে ভেজা শরীর নিয়ে সে শ্রমিক বলে আমি ভালো আছি,
অনাহারে থাকা সন্তান নিয়ে সে মাও বলে আমি ভালো আছি,
ছিন্নমূল আশ্রয়হীন মৌলিক সুবিধা বঞ্চিত পথ শিশুরাও বলে ভালো আছি,
নিপীড়িত ক্ষুব্ধ নাগরিক, আসহায় সাধারন জনতাও বলে-.
আমরা ভালো আছি,

বিষণ্ণ সন্ধায় একাকী আনমনা সে নারীও বলে আমি ভালো আছি,
যে ভালোবাসা হারিয়ে বুকে হাহুতাস নিয়ে বেঁচে আছে সেও বলে ভালো আছি,
বেদনায় নীল হওয়া নীলাভ মানুষ, রক্তাত্ত মানুষও বলে ভালো আছি,
মনস্তাপে কাটে যার অষ্টপ্রহর, দিবালোক সেও বলে আমি ভালো আছি,
যে সংসার বিরাগী সেও পায়ে ধুলো মেখে বলে আমি ভালো আছি,
যে ফিরে আসে ঘরে সুখে দুখে ঘোলাটে জীবনে সেও বলে আমি ভালো আছি,
অতি গর্হিত মানুষের মুখেও শুনি ভালো থাকার কথা, বলে- ভালো আছি,
জীবিকার তাগিদে অথবা ভাগ্যের পরিহাসে যে আজ পতিতা সেও বলে-
আমি ভালো আছি।

দার্শনিকের দৃষ্টিতে যখন বিরক্তির রূপরেখা তখনও সে বলে ভালো আছি,
আমৃত্যু গবেষণা করে যে পাইনি অবসর,বিদায় বেলায় সেও বলে ভালো আছি,
রংতুলি হাতে শূন্য ক্যনভাস নিয়ে অতৃপ্ত সে শিল্পীও বলে ভালো আছি,
যে ব্যর্থ কবির একটি কবিতাও হয়নি ছাপা সেও বলে আমি ভালো আছি,
যখন সর্বহারা মানুষের মুখেও শুনি ভালো থাকার কথা তখন ভাবনা আসে,
তবে কি ভালো আছে সবাই ?
নাকি এ আমার দৃষ্টিভ্রম,কর্ণভ্রম নাকি এ ব্যক্ত কথা নিছক উপলব্ধির?  
ভালো থাকা যদি সত্যিই হয় উপলব্ধির তবে তা অস্বীকার করার-
ধৃষ্টতা নেই আমার, আমিও বলব সবার কণ্ঠের সাথে সুর মিলিয়ে ভালো আছি-
আমি ভালো আছি।

কিছু প্রশ্নের মুখোমুখি দাড়িয়ে

শুক্রবার, ৩১ জানুয়ারি, ২০১৪

এখনও মোছেনি রক্তের দাগ-
বারুদের গন্ধ লেগে আছে নাকে
বাতাসে মিশে আছে আর্তনাদ,সহস্র বিদায়ী বার্তা,
ভাঙ্গা ঘরের চাল এখনও ওঠেনি দাড়িয়ে-
এখনও ঘুমন্ত কলি ওঠেনি পুরো ফুটে,
তবে কেন ফের যুদ্ধের আহ্বান?
কেন মিছে পড়ে আছে সংবিধান,তত্ত্বকথা,জ্ঞান?
স্বাধীন ভূখণ্ডে কেন পরাধীনতার ব্যবচ্ছেদ?
কেন আজও রাজপথে ক্ষত বিক্ষত লাশ?
সীমান্তের কাঁটাতারে ঝুলন্ত মৃতদেহের নিশান,
কেন ফের হাহাকার,অরদ্ধ ক্রন্দনধ্বনি?
কেন বিবেকের অপমৃত্যু?

নতুন সূর্যোদয় ঢেকে যায় দানবী ছায়ায়,
কেন মুক্ত বলাকা নিয়ে যায় শোকের বার্তা?
শুকুনেরা হানা দেয় রক্তের ঘ্রানে-
রক্তপিপাসু হায়েনার চোখে হিংস্র লোলুপ দৃষ্টি,
কেন ক্রমেই শুকিয়ে যাচ্ছে ঘুমন্ত ফুলের প্রান?
ভোরের নির্মল শিশিরে কেন আজ মিশে থাকে রক্ত?
কেন মায়ের চোখে শঙ্কা?
কেন আজ বুক ভরা দীর্ঘশ্বাস?
কোথায় স্বাধীনতা ?

স্বরলিপির মনস্তাপে কাটে অষ্ট প্রহর-
লাঞ্ছিত আজ ভাষার বৈভব,স্বকীয়তা,
রক্তে ভেজা পতাকা আজ পদদলিত,
নিতান্ত অনিচ্ছায় স্বীকৃতি জ্ঞাপন,
কেন সত্য আজ মুমূর্ষ , কেন অন্যায় আজ চতুরাঙ্গি?
কেন এই অবক্ষয়?
কেন ধ্রুপদী আকাশে জমছে গুমোট কালো মেঘ?
কেন আজ বজ্জ্র নিনাদী সম্ভাষণ?
তবে কি এই ছিল চাওয়া?
নাকি সবই অদৃষ্টের অভিশাপ?

আজও অসহায় চোখের কোনে ক্ষুধিত অশ্রু,
এক টুকরো রুটির মাঝে বেঁচে থাকার মানে।
কেন আজও জীবন নিষিদ্ধ পারাপার?
দুখের দহনে হৃদয়ের বীভৎস রূপ,
কেন আজও ধর্ম বর্ণের বর্গীয় ব্যবধান?
কেন অর্থের মানদণ্ডে মানুষের পরিচয়?
কোথায় সাম্যবাদীতা ?
কোথায় অধিকার ?
কোথায় শিকল ভাঙ্গার গান?
গর্জে ওঠা প্রানের জাগরন ।


এখনও শুকিয়ে যায়নি পুরনো সেই ক্ষত,
ধর্ষিতা বোনের আঁচল এখনও ভেজা,
ম্রিয়মাণ আলোয় জ্বলে মলিন বদন-
এখনও অশ্রুতে ভেজা মৃত্তিকার উষ্ণ শরীর,
তবে কেন ফের অশ্রুর প্লাবন?
কেন জাগ্রত আজও কুৎসিত লালসা?
কেন মানুষ হয়ে মনুষ্যত্বকে বিসর্জন?
তবে কি হারিয়ে গেছে চেতনা?
মূল্যবোধ কি আজ অন্ধ,বধির,নাকি নিরেট পাথর?
কোথায় প্রান খোলা হাসির ফোয়ারা?

বার বার জ্বলে উঠে নিভে যায় ক্ষোভ-
অভিশাপের আগুনে পোড়ে মন,জ্বালা করে চোখ,
তবু পুরনো বিভীষিকা ফিরে আসে আবার
কেন ইতিহাস হয়ে যায় পরিহাস?
কেন যন্ত্রণা ভাগ্যলিপিতে বন্দী ?
সময় কেন আজ অযাচিত?
কেন নেই কোন পরিত্রাণ?
নেই প্রশান্তির পরাগে শুভ্র রেনু,
কিন্তু কেন ? কেন ?
কিছু প্রশ্নের মুখোমুখি দাড়িয়ে থাকি কেবলই-
কিন্তু প্রশ্নরা মিলিয়ে যায় শূন্যতায়…

নিরাপরাধ এক নাগরিক স্বত্বার মৃত্যু

সক্রেটিসের দেওয়া হেমলক বিষের পেয়ালা আজ আমার হাতে,
নিরাপরাধ এই নাগরিক স্বত্বাকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে সবাই।
কারও মাঝে কোন দ্বিধা,দ্বন্দ্ব কিমবা এতটুকু ভ্রুক্ষেপ নেই,
আমি একবার থমকে দাড়িয়ে তাকিয়ে দেখলাম বেশ অকপটেই ।
অন্তিম মুহূর্তে আমি মৃদু স্বরে শুধু একটি কথাই বলেছি-
তোমরা জানো না মৃত্যু মানব জীবনের সবচেয়ে বড় আশীর্বাদ।
আমি জানি না কিছুই,তাই কোন তত্ত্ব কিমবা প্রকাশযোগ্য দর্শন নেই,
জ্ঞান নেই যাপিত জীবনের এই মূল্যবোধ,বিশ্বাস,মত,সংস্কারে।
তবে,জীবনের মানে উপলব্ধির মাঝে রয়েছে নিগুঢ় সার্থকতা,
মনুষ্যত্ববোধ,শ্রেয়কে প্রশ্রয় দিয়ে জীবন তৃষ্ণা মেটানোই অস্তিত্ব।
ন্যায়,সত্য,সাহস,ধর্ম,জ্ঞান,প্রজ্ঞা,দায়িত্ব,কর্তব্যের মোড়ক ছিঁড়ে-
একই সুতোয় বাঁধার নামই-চেতনাবোধের অদৃশ্য এক সেতু বন্ধন ।
একদিন তোমরা নিজেদের মুখোমুখি হলে-দেখা হবে অপরাধবোধের সাথে,
সেদিন উৎসারিত হবে নৈতিকতা,আত্মিক মনের এক অনন্ত আকাশে।।

কালচার আজ ক্রিস্টালের আলোর খাঁজে

অ্যালকোহলের গন্ধ ছড়িয়ে আছে চারপাশে,
অনুভূতির পর্দায় আজ মাদকতার মাতাল প্রলেপ।
বর্ণময় আলোকসজ্জায় বেড়ে গেছে রুপ সৌন্দর্য বহুগুনে
ঘ্রানের সুতোয় ঝুলে আছে কড়া পারফিউমের নেশাময় গন্ধ।
নিমেষের পরিচয়ে অন্ধ সক্ষতা,দেহের সমর্পণ,সুখের আদান-প্রদান
ঝিমধরা মুখে হাসির স্রোত।

কালচার আজ ক্রিস্টালের আলোর খাঁজে-
রেড ওয়াইনের ঝকঝকে কাঁচের পেয়ালায় ।
শরৎ ,বঙ্কিমের উপন্যাস আর বাংলা কবিতা আজ তাচ্ছিল্যের খোরাক,
কেটে ছেঁটে ইংরেজি শব্দকে লজেন্স বানানো আজ আধুনিকতা।
অখাদ্যের তালিকায় ডাল-ভাত আর শালীনতা ঘিরে বর্ণময় ব্যঙ্গ ।
শ্রদ্ধাবোধ আজ নির্বাসনে- ক্ষমতার উগ্র খেয়ালীপনায় ।

ধর্ম আজ যুক্তি-তর্কের শূন্য ভাগশেষ ,
নাস্তিকতা আজ হালের ফ্যশান ।
অন্ধ-সস্থা বিলাপে কোন প্রান নেই, প্রান নেই সবুজ মাঠে,
প্রান কেবলই যেন অভিজাত পান্থনিবাস আর বিলাসী দ্রব্যে ।
ভালোবাসা আজ বেওয়ারিশ…।
নোনা শরীরে মেশানো আজ ক্রিত্তিম মধু,পরিশোধিত কেমিক্যাল ।
জীবন মানে এখানে সংগ্রাম নয়-
এখানে জীবন মানে- উৎসব, অমৃত স্বাদ আস্বাদন ।

উৎসব এই সূর্যসাগর তীরে

দারুচিনি কিমবা দেবদারু দ্বীপে নয়, উৎসব এই সূর্যসাগর তীরে,
এখানে জীবনের স্পন্দন,বন্দরে বর্ণময় কোলাহল আর ব্যস্ততা ।
দিগন্তের জলসিঁড়ি বেয়ে উঠে আসে অভিলাষী আনন্দ স্বপ্ন,
এখানে অন্ধকার নেই, নেই নক্ষত্রের বিচরন নভোমণ্ডলের কক্ষপথে।
প্যথিওলিথিক যুগ হতে বর্তমান কালের বক্ষে এ উৎসব অব্যহত,
স্থির-ধুম্র নিবিড় পিরামিড সাক্ষী দেয় তার আজও দ্বিধাহীন হয়ে ।

এখানে রয়েছে ভ্রান্তির মোহ, মাটি ,আলো আর জল,
প্রমত্ত ধোঁয়ার কুণ্ডলী উড়ে যায় লালিমা আকাশের আনত বুকে।
এখানে শূন্যতার মাঝে ঝুলে থাকে বিধাতার অমোঘ বিধান,
তৃষিত চোখ আর ক্ষুধার্ত ওষ্ঠধারে কেবলই ভরা জৌলসের কামনা।
লাল গালিচা,সাজানো পসরায় আলোকিত উৎসবের আয়োজন,
সুতোয় বাঁধা বন্ধন,প্রেম,দুঃখ,ব্যথা,রাগ-অনুরাগ এখানে পরিহাস।

এখানে দেবতারা আসে না কখনো পূর্ণ-অপূর্ণতার ইন্দ্রজাল ছিঁড়ে,
আকাশ বানী এখানে এসেছে বারংবার তবু কারো ভ্রুক্ষেপ নেই।
নিঃশব্দে,সশব্দে মৃত্যু এসেছে বহুবার তবুও উৎসব মুখরিত,
বিমূর্ত আকরে চোখ বুজে অনেকেই বিশ্রামে গেছে ক্লান্ত হয়ে ।
একরাশ ঘুটঘুটে কালো অন্ধকারে আচ্ছন্ন সে বিশাল বিশ্রামাগার,
বুভুক্ষু দৃষ্টি উৎসবের আলোতে বন্দী হয়ে মত্ত হয় ফের মোহের আঞ্জামে-
চোরাবালির এই সূর্যসাগর তীরে।।

অধরা স্বপ্নের অনুকাব্য

স্বপ্ন সপ্নই থেকে যায় ,ধরা যায় না তাকে -
ধরা ছোঁয়ার বাইরে ভিন্ন এক জগতে বসবাস তার ।
কৈশোরের স্বপ্নগুলো উড়ে গেছে দূরে বহু দূরে ফানুসের মত,
লাল নীল সহস্র স্বপ্নেরা আসে শুধুই মরিচিকা হয়ে ।

অঙ্গিকারের আয়নায় নিজের প্রতিবিম্ব পরাস্থ রুপে দেখা দেয়-
দেখা দেয় নিয়তির পরিহাস রুপেও ।
জানি অন্তর্জালে আছে স্বাধীনতা-তবে তা স্বপ্ন ছোঁয়ার নয়-
অক্ষমতার কাছে অসহায় মুক্ত হৃদয় ।

রোদে কিমবা বৃষ্টিতে ভেজার ইচ্ছেটা পূরণ হয়েছে সত্যি-
কিন্তু, ভোরের কুয়াশার শিশির হওয়ার স্বপ্নটা-
আজও সপ্নই থেকে গেছে ,তা হয়নি পূরণ ।
মেলতে পারেনি পাখা এই বাস্তবতার বৃহৎ আকাশে ।

জানি জীবন গল্প থেমে যাবে একদিন,থেমে যাবে পথ চলা -
শেষ হবে হাজারও বর্ণ-শব্দ-কথার খেলা ,
তবু, স্বপ্নের সাথে হবে না সন্ধি-হবে না স্পর্শ এক মুহূর্তও-
শুধু বিদায়ের ক্ষণে হাতছানি দিয়ে জানাব তাকে-
তুমি অধরা, অধরা-ই রয়ে গেলে ।।

জীবনের আরও একটি নাম দুঃসহ যন্ত্রণা

বৃহস্পতিবার, ৩০ জানুয়ারি, ২০১৪

জীবনের আরও একটি নাম দুঃসহ যন্ত্রণা-
স্ফুলিঙ্গের মত কখনও রুপ তাঁর ,
কেবলই নষ্ট অতীত আর সমসময়ের তীব্র জালাময় কষ্টের ঘনঘটা-
ঘূর্ণিপাকের এই জীবন চক্রে ।
সম্পর্কহীন সীমাহীন শূন্যতায় হারিয়ে আবার ফিরে আসা-
এই ক্রান্তিময় কুলষিত কালের কোলে ।
রূপালী আলোর পরাস্থ মলিন মুখে-
অব্যক্ত আভিসাপের নগ্ন রূপরেখা আর ভৎসনা ,
নিকষ আঁধার থমকে দাঁড়ায়-প্রবাহিত প্রমোদহীন অকুল পাথারে
ছোট্ট দীর্ঘশ্বাসে আরও দীর্ঘ হয় দিকভ্রান্ত মাঝির উন্মত্ত দরিয়া ,
গর্জে উঠে থেমে যায়-
ভীরু সুখেরা হারিয়ে যায় নীল বেদনার ঈষৎ নীল আভায় ।

বিপদের প্রতিধ্বনি

বুধবার, ২৯ জানুয়ারি, ২০১৪

চারিদিকে বিপদের প্রতিধ্বনি,অস্থির অশনি সংকেত-
হৃদয়লোকের শুভ্র বাসনা বিলীন হয় ক্ষণে ক্ষণে।
বীভৎস বাস্তবতা সম্মুখে এসে দেখা দেয় বারংবার,
প্রত্যাশা আজ প্রতি পদক্ষেপে লাঞ্ছিত।
হৃদয়ের বন্দরে বন্দরে বিপদ সংকেতের ধুম্রজাল-
অস্থির নিঃশ্বাসে প্রকম্পিত আকাশ,বাতাস, পৃথ্বীতল।
সস্থির আশ্রয়ে লেগেছে ঘাতক ঘুণের পোকা,
নিরঞ্জন বাতাসে আজ মিশে গেছে জ্বালাময়ী বিষ।
ভেঙে গেছে মাস্তুল-পাটাতন,ছিড়ে গেছে পাল-
উন্মাদী বাতাসে বেসামাল কাণ্ডারির সুদৃঢ় হাত।
তুফানের শঙ্কায়- শঙ্কিত, অসহায় আজ প্রান,
নিরানন্দের উন্মত্ত নৃত্যে মুখর চারিদিক।
অন্তপুরের নীড় বাঁধা নিষ্কলঙ্ক পাখি উড়ে গেছে-
ছেড়ে গেছে মনের বিধ্বস্ত উপকূলীয় সীমানা থেকে।
অনুভবের অস্তিত্বে আজ শুধুই বিষাদগ্রস্থের পরিব্যপ্তি,
বিপদের প্রতিধ্বনিতে- ধ্বনিত আজ চারিদিক।

কৃতজ্ঞতা

মৃত্তিকার গন্ধ লেগে আছে নাকে-
অন্তরের অন্তঃস্থলে বিশ্বাসের বলয়,
সব দাম্ভিকতা বিলীন হয়ে যায় এক মুহূর্তেই-
তবু কেন কাঁপে না প্রান ?
কেন নত করি না মাথা শ্রদ্ধা ভরে ?
আজ আর একটি বার নিজেকে জিজ্ঞেস করি-
কিসের এত অহংকার?
মিথ্যে অহংকারে পুড়ে পুড়ে শেষ হবে একদিন-
শেষ হবে সব, শেষ সত্য প্রনয়ে ।
যে সুর এসেছে কণ্ঠস্বরের সীমানায়,
যে আলো,যে বাতাস এসে দোলা দেয় হৃদয়ের আঙিনায়-
তার উৎস কোথায় ?
জানি, তবু কেন অকারণ চাওয়া ?
কেন নিজেকে মুখোশের অন্তরালে গুটিয়ে রাখা?
এসো আরও একটি বার বুক ভরে শ্বাস নিই,
নিমগ্ন হই পরিতিপ্ত প্রশান্তিতে ,
কৃতজ্ঞতা প্রদান করি – ঈশ্বরে ।
সকল প্রশংসা সে তো তাঁর-ই জন্যে ।।

কালের বিবর্তন

অদৃশ্য অন্তহীন চক্রে ঘূর্ণায়মান কালের দৃশ্যপট,
নতুন সূর্যোদয় যেন মহাকালের নব পরিক্রমা।
আলোকিত চারিদিক কিন্তু তার নিচে চাপা পড়ে আছে নিকষ অন্ধকার-
বিবর্তনের বর্ণ গুলো আজ বড় এলোমেলো, দিকভ্রান্ত।
হয়তো আশীর্বাদে নয়তো অভিশাপে সৃষ্টি এ ধরার ধুলি,এক মহা প্রাচীর-
সে প্রাচীরের এ পাশে প্রহেলিকার আনাগোনা।
বাতাসে মিশে আছে মোহ ভ্রান্তি আর কলুষিত প্রতিধ্বনি
মিশে আছে স্পষ্ট অস্পষ্ট উন্মত্ত উন্মাদনার সুর।
হয়তো আদিম দেবতারা এসে ফিরে গেছে-
ফিরে গেছে পৌরাণিক সেই ভূখণ্ড কিমবা সমুদ্রপৃষ্ঠের আবাস থেকে ঈশ্বর।
অসহ্য ধংষজজ্ঞ, উন্মত্ত-উন্মাদনাময় নৃত্যের উচ্ছৃঙ্খল আঞ্জামে-
হয়তবা ফিরে গেছে লাজে,রাগে,খোবে,অভিমানে।
বিন্দু বিন্দু ঘাম, হাজারও মাথার খুলি আর পাঁজরের হাড় গুলো সব মিলিয়ে গেছে -
মিলিয়ে গেছে ঐ সুদুরে নক্ষত্রের মাঝে।
হয়তো তিমির অন্ধকারে সেই সব মৃতদেহের আত্মা ফিরে আসে -
কালের আঁধারিত প্রান্তে, প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে।
জোনাকির নীলাভ দ্যুতি ছড়ায় রাতের আঁধারে এ ভুবন তলে,
সূর্যরশ্মি আর স্ব স্ব- অস্তিত্বের শক্তি ঘটায় কালের ক্রমবিকাশ, বিবর্তন।
সুউচ্চ বরফ চুড়া গলে গলে মিশে যায় রহস্যময় মহাসাগরের সাথে-
পাঁজর ভাঙ্গা হাড় কঙ্কাল মিশে যায় মায়ার এ মৃত্তিকায়।
সময়ের রথে চড়ে এসেছে সভ্যতা, এসেছে ক্রান্তিময় বিবর্তনের মধ্য দিয়ে
নিরবিচ্ছিন্ন অভিযোজনে উপনীত আজ আমাদের জীবনধারা,
তবে তা শাশ্বত কল্যাণের নাকি বিপন্নতার আয়োজনে?
শূন্যতায় মিলিয়ে যায় সে প্রশ্ন, মেলে না উত্তর।
সভ্যতার চরম শিখরে উঠেও আজও আমরা খুঁজে পাই-
ঘাসের শিশিরের সাথে মিশে থাকা মানুষের রক্ত।
যে মশাল দিয়ে আলোকিত করেছিল গুহাবাসী তাদের আবাসস্থল-
সে মশাল দিয়েই আজ আমরা পুড়িয়ে দিই আমাদেরই ঘর ।
নিষ্পেষণ,জুলুমের শূলে চড়িয়ে আমরাই মত্ত হই-
মহা আনন্দের অন্ধ, বধির, নির্মম উল্লাসে হিতাহিত জ্ঞানশূন্য হয়ে।
হাজারও মৃতদেহের উপর দাঁড়িয়ে করি উন্মত্ত নৃত্য,
ভয়ে কাঁপিয়ে দেই জল্লাদের পাষাণী বুক।
রক্ত পিপাসু হিংস্র জানোয়ারের মত আজ আমরাই-
খুবলে খাচ্ছি মানুষের বুক, চুষে নিচ্ছি মানুষের রক্ত।
সহস্র আজরাইলের রুপ ধারন করছি এই আমরাই-

তবুও আমরা পরিচয় দিচ্ছি আমরা মানুষ, আমরা সভ্য জাতি!!