প্রতিবিম্বের বিবর্ণ কাব্য লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
প্রতিবিম্বের বিবর্ণ কাব্য লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

প্রতিবিম্বের বিবর্ণ কাব্য– ১৭

শনিবার, ১৯ এপ্রিল, ২০১৪

তেজস্বী রোদের দাপট এখন এর নেই। ঝলমলে ভাবটা কিছুটা মলিন। শুকনো কাঁটায় ঝুলে থাকা দীর্ঘশ্বাস ঝরে পড়েছে। থেকে থেকে ভেসে আসছে কিছু পোড়া বাতাস। দমকা সে বাতাসের নাম দিয়েছি অর্বাচীন। কথা হয়নি তার সাথে তবু জেনেছি তার আদি অন্ত।

হঠাৎ নিদাঘ আকাশের সীমাহীন চূড়ায় চক্রাকারে উড়ে চলে এক ভুবন চিল। আশেপাশে আর কোথাও কোন পাখি নেই। ঊর্ধ্বদৃষ্টি বিদ্ধ হল সে আকাশ সীমায়। তারপর বুকের ভিতর অনুভূত হল গভীর শূন্যতা । ঝরে পড়ল আবার দীর্ঘশ্বাস আর ধ্রিয়মাণ ধ্রুপদ। মটির দিকে তাকিয়ে দেখি একটি মৃত সাদা বক আর ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা রক্ত, রক্ত মাখা পালক। শিহরিত হল সমস্ত শরীর বিদ্যুৎ গতিতে।

কিছু কাকেদের ডাক কানে এলো। তারপর তাকিয়ে দেখি অসংখ্য কাক চারিদিকে কা কা শব্দে বিভোর। আকাশ চূড়ায় উড়ে চলা ভুবন চিলটি আর নেই। কিছু বাতাসের ঝাপটা এসে লাগলো মুখের আঙিনায়। কিন্তু সে বাতাস অনির্ণেয়,অচেনা, দিয়ে গেল অন্য এক অনূভব্য শিহরণ।

প্রতিবিম্বের বিবর্ণ কাব্য– ১৬

সোমবার, ১৭ মার্চ, ২০১৪

কেউ একজন নীল দ্বীপ হতে এসেছে এখানে। নীলাভ চোখ দুটোর দিকে তাকালে মনে হয় শান্ত দুটি অথৈ জলের সমুদ্রপৃষ্ঠ। স্পষ্ট মুখের দিকে তাকালে মনে হয় কিছুটা মেঘলা আকাশ। হয়তো কিছুক্ষন পর বৃষ্টি নামবে। মনে হল সে মানুষ না। আমি কাছে এগিয়ে যাই, কৌতূহলে ছুঁয়ে দেখি।

মুহূর্তেই নিজের দিকে তাকিয়ে দেখি আমি নীল হতে শুরু করেছি। সব অঙ্গ প্রত্যঙ্গ নীল বর্ণ ধারন করছে। চোখ দুটো জ্বালা করে রক্তিম হয়ে উঠেছে। যেন সকালের রক্ত মাখা সূর্য। নিজেকে দেখে নিজেরই ভয় হল। আমি বিভ্রান্ত হলাম। বুঝতে পারলাম না আমি জীবিত নাকি মৃত।

চোখের কোনা বেয়ে গড়িয়ে পড়া অশ্রু মুছে দেখি তা রক্ত। তারপর বৃষ্টি এলো। আমি চোখ বুজে দাঁড়িয়ে ভিজলাম সে বৃষ্টির জলে। চোখ খুলে তাকিয়ে দেখি আমি স্বাভাবিক আর সেই নীল মানুষটি আমার সামনে। আমি ভীরু জিজ্ঞাসু কণ্ঠে বলে উঠি কে তুমি? তারপর সে মিলিয়ে যায় শূন্যে। শুধু একটি হাঁসির শব্দ মিশে থাকে বাতাসের বুকে। ধ্বনিত প্রতিধ্বনিত হতে থাকে আমার চারপাশে।

প্রতিবিম্বের বিবর্ণ কাব্য– ১৫

রবিবার, ১৬ মার্চ, ২০১৪

সূর্যমুখী ফুল ফুটেছে ঐ। তাজা সে ফুলের ঘ্রানে মাতাল মৌমাছি প্রজাপতির দল। ঘুমন্ত ঝিঝি পোকারা জেগে উঠেছে উৎসবের আঞ্জামে। পানকৌড়িগুলো ডুব সাঁতার দেয় না আর। শুরু হল ফুল কেন্দ্রিক ছুটে চলা। একে একে ছুটে যেতে থাকল সবাই। ভিড়ের বেষ্টনী তৈরি হল সেই বাগিচা ঘিরে। সবাই তাকিয়ে রইল উন্মুখ হয়ে।

তবুও কোন ভ্রুক্ষেপ নেই সে ফুলের। কেবলই সে তাকিয়ে রইল সূর্যের দিকে। তবুও সবাই অধীর আগ্রহে অপেক্ষারত। কেউ কেউ বলল সে ফুল এখন উপসনারত, কেউ কেউ বলল বিষণ্ণ, কেউ কেউ নির্বিকার দাড়িয়ে রইল। সবাই যেন এক মহেন্দ্রক্ষণের অপেক্ষায়।

এক সময় ক্লান্ত হয়ে পড়ল সবাই। কেউই আর থাকতে চাইলো না সেখানে। তারা ফিরে যেতে চাইলো কিন্তু তারা স্মৃতিভ্রষ্ট হল। তারা ভুলে গেল ঠিকানা। অচেনা হয়ে গেল ফিরে যাওয়ার পথ। তারা বিক্ষিপ্ত মন নিয়ে স্থির দাঁড়িয়ে রইল। চোখে মুখে ফুটে উঠলো অবুঝ অসহায়ত্বের ছাপ।

প্রতিবিম্বের বিবর্ণ কাব্য– ১৪

শনিবার, ১৫ মার্চ, ২০১৪

দিকবিজয়ীর মুকুট পড়ে আছে অবহেলায়। কেউ ছুঁয়ে দেখে না আর। দার্শনিকের চিঠিগুলো হারিয়ে গেছে। কিছু ধুলো পড়া সাদা কাগজের খামে বন্দি তা মুক্ত করেনি কেউ। ভোরের কুয়াশায় সবার অগোচরে ডানা মেলে উড়ে যায় সাদা বকের দল। প্রভাতে ঝরে যাওয়া কোমল ফুলগুলো পদদলিত হয় নিষ্ঠুর ভাবে।

বিদ্রোহের আগুন নিভে গেছে। পড়ে আছে ছাই। কোন দৌরাত্ম্য নেই আর। দোষগ্রাহীরা সব মৃত। দোষৈকদর্শীরা সব নিশ্চুপ। রক্তাক্ষের দৃষ্টি আজ মলিন। মরচে পড়েছে শাণিত তরবারির শরীরে। সুপর্ণ পাখিরাও হারিয়ে ফেলেছে পালক। এখন নগ্ন শরীরে তারা হেঁটে চলে সম্মুখে।

একদিন তেজদীপ্ত সূর্যের আগমনে তপ্ত হবে চারিদিক। ফের জ্বলে উঠবে আগুন। মলিন চোখেও দেখা যাবে অগ্নি শিখা। দার্শনিকের খোলা চিঠি হাতে দাড়িয়ে থাকবে এক যুবক। মাথায় থাকবে দিকবিজয়ীর মুকুট আর অন্য হাতে শাণিত খোলা তরবারি। নগ্ন পাখিরাও ফিরে পাবে পালক। অন্তিম মুহূর্তেও ভেসে ওঠে এই ছবি কোন এক যাত্রীর চোখের ক্যানভাসে।

প্রতিবিম্বের বিবর্ণ কাব্য– ১৩

শুক্রবার, ১৪ মার্চ, ২০১৪

এই মৃত মহদেশে কোন রোদ্দুর নেই। উপরে মেঘলা আকাশ আর নিচে চোরাবালি। ঝরে গেছে সব পাতা। শূন্য বৃক্ষগুলো ঠাই দাড়িয়ে আছে। বিরান পথে পড়ে আছে দুখের স্পষ্ট মানচিত্র। নদীগুলো শুকিয়ে গেছে সব। ভাঙ্গা নৌকা আর বৈঠা গুলো পড়ে আছে তীরে।

এখানে বাতাস নেই। নেই ফুলের সৌরভ। স্তব্ধ সব পাখির কণ্ঠস্বর। একরাশ বিষণ্ণতা নিয়ে এখানে ভোর আসে নিঃশব্দে নিঃসঙ্গতার প্রতিরূপে। মৃত ঘাসের মলিন বুকে ঝরে না শিশির বিন্দু। সাদা বকের ঝাপটানো ডানায় ছুটে যায় না নরম রোদ্দুর মাখা স্বপ্ন।

মৃত ভালোবাসা এখানে ভবঘুরে। শ্বাস প্রশ্বাসের সাথে রক্তচন্দন বৃক্ষের মূলে শুধু ধুক ধুক স্পন্দন। কালের সাথে বয়ে চলে এভাবে ধুসর জীবনের ছায়া। তারপর হঠাৎ মৃত নদীর বাঁকে পড়ে থাকা কাশফুল ছুঁয়ে ভালোবাসা জেগে ওঠে। আমি ছুঁয়ে দেখি তা সুখ পাখির ছেঁড়া পালক।

প্রতিবিম্বের বিবর্ণ কাব্য– ১২

বৃহস্পতিবার, ১৩ মার্চ, ২০১৪

মুক্তমঞ্চের নাটক শুরু হয়েছে অনেক আগেই। কিছু দৃশ্য দেখতে দেখতেই ভারি পর্দা নেমে এলো। দর্শনার্থীদের কেউ কেউ বলছে এখন বিরতি। কেউ কেউ আসন ছেড়ে চলে যাচ্ছে। কারও কারও আগমন ঘটছে ঠিক ঐ মুহূর্তেই। বাকিটা দেখার জন্য উদগ্রীব অসংখ্য মানুষ।
ক্রমেই সরে যাচ্ছে ভারি পর্দাটা। চারিদিক থেকে কানে আসছে অজস্র হাততালির শব্দ। তারপর শুরু হল নতুন দৃশ্য। নতুন দৃশ্যে এসেছে কিছু নতুন মুখ। বিপ্লবী মুখগুলো দেখা যাচ্ছে না আর। সরিয়ে নেয়া হয়েছে কিছু প্রবীণ মুখও।

তারপর কিছুটা সময় পার হতেই মুখোশ পরা কিছু অভিনেতাদের আবির্ভাব হল। রঙ্গিন রঙ্গিন সব মুখোশের আড়ালে তারা কথা বলছে মেকি কণ্ঠে। আমরা কেউ-ই তাদের আর চিনতে পারলাম না। নাটকটা হয়ে উঠলো বিভ্রান্তিময়।

প্রতিবিম্বের বিবর্ণ কাব্য–১১

সোমবার, ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৪

অমর প্রেমের কাব্য রচিত হয়েছে ধীরে ধীরে ভালবাসার রং দিয়ে। আবেগ অনুভুতির আদান প্রদানে সৃষ্ট সেতু বন্ধনে ছিল পাখির পালক ছোঁয়া স্বপ্ন। নন্দিত চিৎকার ঐ দূর পাহাড় হতে ফিরে এসে হত মাতোয়ারা।উচ্ছাসের ডানায় ভর করে আমরা ভেসে বেড়াতাম অলৌকিক সব স্বপ্ন-মেঘে মেঘে আর স্বপ্নমেঘের আড়ালে লুকানো ছিল একটি পাণ্ডুলিপি।
তারপর একদিন শতাব্দীর বুকে জন্ম নেওয়া শ্বেত পাথরে খোদায় করে লেখা হল নাম। অনেক সযতনে তৈরি হল নীড়ের প্রাচীর। লাগানো হল কামিনী ফুলের গাছ। পথের ধারে কিছু লতা উঠেছে জেগে।
এপিটাফের ঝাপসা লেখাগুলো পড়েছি আগেও।আজ পড়তে যেয়ে বাঁধ ভেঙ্গে গেল চোখের। জল এসে ভিজিয়ে দিল মুখের মরু আঙিনা। কামিনি ফুলের ডালে ঝুলে আছে কিছু দীর্ঘশ্বাস আর অমর প্রেমের কাব্য তা দেখেনি কেউ।

প্রতিবিম্বের বিবর্ণ কাব্য-১০

বুধবার, ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০১৪

রংমশালের আলোয় আজ আনন্দ আয়োজন। কপালে রক্ত চন্দন আর হাতে মেহেদীর রং। লোহিত নেত্রের জল নিয়ে খেলছ হোলি খেলা, শরীরে লেগে আছে আজও সেই দাগ,আছে নোনা অনুভূতি তবু সবই উপেক্ষিত। আজ মিথ্যার খোলসে তৃপ্ততার মাঝে বসবাস সমস্ত সত্যকে অস্বীকার করে। আপদ-মস্তক আবরিত আজ মিথ্যে অহংকার আর হেয়ালি ইচ্ছার রঙ্গিন মোড়কে।

প্রীতিদর্শনের নানা আয়োজনে আজ তোমার ব্যস্ততা। নিদ্রাহীন প্রহর কাটে না এখন আর কামিনী ফুলের ঘ্রানে। কামনার মাতাল ঘ্রানে হও মাতোয়ারা, বেসামাল।শুধু নিদ্রিত আমার স্বপ্ন আর তোমার সত্য অনুভূতি। আজ উষ্ণ বিছানায় তুমি শীতল হও ক্ষণিকের পরিনত সুখের বৃষ্টি ধারায়।

একদিন ভূলুণ্ঠিত হবে সব মিথ্যে অহংকার, গড়া তাসের দুর্গ, হেয়ালি ইচ্ছের দুরন্ত ঘুড়ি। সেদিন পদদলিত হবে সব। তোমার রতিগৃহ হবে বিশৃঙ্খল। তোমার অন্তর্বাসে সেদিন আঁকা থাকবে বিষণ্ণতা,আঁকা থাকবে শঙ্কার ছায়া। সেদিন জৈবিক সুখ হবে যন্ত্রণা। মনস্তাপে কাটবে তোমার প্রতিটি প্রহর, প্রতিটি মুহূর্ত। তোমার বুক জুড়ে থাকবে সেদিন মুঠো মুঠো দীর্ঘশ্বাস।  

প্রতিবিম্বের বিবর্ণ কাব্য–৯

বৃহস্পতিবার, ৩০ জানুয়ারি, ২০১৪

নিত্য খুঁজে ফেরা প্রশান্তির ভোর চুরি হয়ে গেছে অনেক আগেই আমরা বুঝিনি। কেবলই ছুটে চলেছি মরিচিকার পিছে। যেন পিছন ফিরে তাকানোর সময় নেই। কেউ কেউ পিছনে তাকিয়ে হারিয়ে গেছে। তাদের কেউই আর ফিরে আসেনি। আশা,প্রত্যাশা আর স্বপ্নের জাল বুনে বুনে আমরা এগিয়ে চলেছি আঁধারের অন্ধ পথ ধরে।

কিছু দুর্নিবার শব্দ কথারা দুর্গ গড়েছে এই পথের বুকে। আমাদের কেউ কেউ এই সব দুর্গে বিশ্রামরত। কেউ কেউ তা উপেক্ষা করে অব্যহত রেখেছে যাত্রা। সব পতঞ্জলি হারিয়ে গেছে পাদবিক পদতলে। সবাই যেন অপ্রতিরদ্ধ প্রত্যয়ী প্রতিরথ।

আরও ঘনীভূত হল অন্ধকার। ম্রিয়মাণ যে আলো জ্বেলে এতটা পথ পাড়ি দিয়েছি তা নিভে গেল। তারপর দিকভ্রান্ত হল অনেকেই। কেউ কেউ ক্লান্ত হয়ে ঘুমিয়ে গেল। শুধু আমরা কয়েকজন রক্তমাখা বিষণ্ণ ভোরের খুব কাছাকাছি পৌঁছলাম।

প্রতিবিম্বের বিবর্ণ কাব্য–৮

অন্তঃনগর ষ্টেশন থেকে যাত্রীবাহী একটি ট্রেন ছেড়ে গেছে একটু আগে। আমি প্লাটফর্মে দাড়িয়ে আছি। আশেপাশে তেমন কেউ নেই। টোকাই আর ফেরিওলাদের অনেকেই চলে গেছে, আর যারা আছে তারা গুটিসুটি মেরে বসে আছে এখন।

একজন বৃদ্ধ শুয়ে আছে প্লাটফর্মের এক কোনে। মৃদু কাশির শব্দে দৃষ্টিগোচর হল।পরনে তাঁর জীর্ণ কাপড়। দুচোখ ভরা গাড় বিষণ্ণতা। আমি এগিয়ে গিয়েও আবার পিছিয়ে এলাম। তাকিয়ে রইলাম ট্রেন লাইনের সমান্তরাল পাত ছোঁয়া দিগন্তে। সেই দিগন্ত ছুয়ে আসা উদাসী বাতাস আমাকে কিছুটা উদাসী করে দিল।

ফিরে এলো ট্রেনটি শূন্য হয়ে সশব্দে। ঘোর কেটে এলো আমার। ইতিমধ্যে অসংখ্য মানুষের ভিড়ে ভরে উঠেছে প্লাটফর্ম। সবার মাঝেই ব্যস্ততা শুধু বৃদ্ধ লোকটির কোন ভ্রুক্ষেপ নেই। আবার চলে গেল ট্রেন।থেমে গেল ব্যস্ততা।আশেপাশে তেমন কেউ নেই। আমি বিশ্রাম নিচ্ছি। শুন্য প্লাটফর্মে দেখি শুধু কতগুলো মাছিদের ব্যস্ততা বৃদ্ধ সেই লোকটিকে ঘিরে।

প্রতিবিম্বের বিবর্ণ কাব্য–৭

ঘরের শোভা বাড়াতে শখের বসে আনা হল পাথরের এক ফুল। এক দুই তিন করে বৃদ্ধি পেতে থাকল মানুষের সৃষ্ট কৌতূহলের জন্য। উৎসুক অনেকেই দেখে মুগ্ধ হল। সৃষ্টি হল পাথর বাগান, যেখানে শুধু পাথরের ফুল। মানুষের ভালোবাসা বন্দি হতে থাকল পাথর ফুলে। ছড়িয়ে পড়ল পাথর ফুলের চাষ।

শুরু হতে থাকল সত্যিকার ফুল নিধনের প্রতিযোগিতা। চারিদিকে কৃত্রিম ফুলে ফুলে ভরে গেল, যার কোন গন্ধ নেই, কোমলতা নেই। ক্রমেই হারিয়ে গেল সত্যিকার সব ফুল শুধু অবশিষ্ট রইল একটি গোলাপ।

অতঃপর টিকিট কেটে দেখা শুরু হল সেই গোলাপটি। গোলাপ কেন্দ্রিক মানুষের সমাগম বাড়তে থাকল তাই তৈরী হল চারিদিকে কঠোর নিরাপত্তার বেষ্টনী। কেউ আর ছুঁতে পারল না গোলাপটি। গন্ধ নেওয়ার চেষ্টাও বৃথা হল কারন পাথর মন ঘ্রানশক্তিহীন।

প্রতিবিম্বের বিবর্ণ কাব্য–৬

জাগতিক ঘড়ির কাঁটা থমকে দাড়িয়ে গেল। এগোতে পারল না আর। অনুভূতির দরজা একে একে বন্ধ হয়ে গেল সব। বন্দি হয়ে গেল হাওয়ায় ভাসা সুখ, দুঃখ, হাসি, কান্না, গান, আনন্দ, বিস্ময়, অভিমান। কোন কিছুই স্বাধীন রইল না আর। মন হয়ে পড়ল অনুভূতিহীন, নিস্তেজ,অসাড়।

প্রেম স্তব্ধ হয়ে পড়ল নিমেষেই। বন্ধ হল পাখির ডানায় স্বপ্নের ওড়াউড়ি আর সভ্যতার রঙ পরিবর্তন। আর কোন কামনা জাগল না মনে। সন্তর্পণে হেঁটে চলা লালসা ঘুমিয়ে গেল নিঃশব্দে। নিভে গেল সব আলোক রশ্মি বিদ্যুৎ গতিতে।

সমস্ত ঘড়ি হারিয়ে গেল, শুধু একটি বিশাল ঘড়ি টিক টিক শব্দে শুরু করল সময়। ঘুম ভেঙ্গে গেল সেই শব্দে। বিস্ময় চোখে তাকিয়ে দেখি সবই অচেনা, অজানা এক অনুভুতি।

প্রতিবিম্বের বিবর্ণ কাব্য-৫

একটি ছায়ামূর্তির নজর বন্দীতে আমি। চোখের আড়াল হওয়ার নেই কোন উপায় । আজন্ম নজরবন্দী আসামি হয়ে চলেছি ছুটে। কখনও বা ধীর-কৌশলে আবার কখনও বা ঊর্ধ্বশ্বাসে ছুটে গিয়ে দাঁড়াতেই সামনে এসেছে তার অবয়ব ।

এক বুক দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে জিজ্ঞেস করি কি তার চাওয়া। কোন উত্তর মেলে না, কেবলই প্রতিধ্বনিত হয়ে ফিরে আসে নিজের প্রশ্ন । একি প্রহেলিকা নাকি প্রহসন ? প্রশ্নবিদ্ধ হই নিজেই। ক্রমেই বেড়ে যায় অলক্ষের অনুভুতিক জগৎ। দ্বিধা-দ্বন্দ্বের কাছে পরাজিত হই বারং বার ।

অতঃপর একদিন দেখি হারিয়ে গেছে ছায়াটি । অবশ অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ নিয়ে তাকিয়ে দেখি, খুঁজে ফিরি তাকে। তবুও মেলে না । ভেবে দেখি আজ সত্যিই মিলেছে পরিত্রাণ। তবে এ পরিত্রাণ স্বস্তির নয়,কেবলই অস্তিত্ব বিলীনের ।

প্রতিবিম্বের বিবর্ণ কাব্য-৪

রাতের বিষন্নতা চলে গেছে নির্বাসনে । নিশাচর পাখিরা অন্ধকারে ভীত-সন্ত্রস্ত । দিনের আলোতে তাদের অবাধ বিচরন ।পালিয়ে এসেছে আলোতে জোনাকির দল । শিশির পড়ে না সকালের সবুজ ঘাসে ।ঘুম ভাঙা ভোরে যেন সবাই ঘুমিয়ে পড়ছে।

এক দল প্রজাপতি খেলা করে রাতের অন্ধকারে ।হায়েনার চোখে উন্মত্ত উন্মাদনা, প্রফুল্লতার ফোয়ারা । চাঁদের আলোয় স্নান করে কুনো ব্যঙেরা । নিকষ আঁধার ভিজে যায় রংধনুর বিচ্ছুরিত রঙে ।

অতঃপর শিশির ঝরে। সকালে সবুজ ঘাসের উপর জমে থাকে রক্ত বিন্দু ।সূর্য ওঠা সকালের কোমলতা হয় ফেরারি । দিনের আলোয় চোখ মেলে তাকায় ক্লান্ত হায়েনারা। ঘুমিয়ে পড়ে প্রজাপতির দল।অন্ধকার বন্দী করে সূর্যকে। সূর্যগ্রহণেই কেটে যায় বেলা ।

প্রতিবিম্বের বিবর্ণ কাব্য-৩

আমি হেঁটে যাই , হেঁটে যাই ভাঙা পাথরের পথ ধরে অভিসারী পথিক হয়ে । নিষ্প্রাণ সে পথ বলে না কোন কথা । চারিদিকে কৌতূহলী অদৃশ্য সব চোখ। রহস্যের জালে বিন্যস্ত পৃষোদরী কাল।

আশৈশব বিস্ময়ী এ যাত্রায় যেন কোন ক্লান্তি নেই। তবুও,ক্লান্তির দৈর্ঘ্য মাপা পড়ে কালের গজে । হেঁটে গেছে আরও অনেকেই এই পথের বুকে ভর করে। পড়ে থাকা সে সব চিহ্ন আমাকে দেখে হাসে বিদ্রূপের হাসি । শুধু ঝরা পাতারা কাঁদে নীরব বেদনায়।

তবুও, হেঁটে চলি আমি সম্মুখের পথ। শেষ প্রান্তে এসে কৌতূহলী চোখে তাকিয়ে দেখি- কথা বলে শূন্য সে ভাঙা পাথরের পথ ।গভীর এক রহস্য ভর করে আমার চোখের আঙিনায় । আমি আর পথিক নই। যেতে পারি না আর ঐ পাথরের পথে। আজ আমি নিজেই এক মস্ত পাথর।

প্রতিবিম্বের বিবর্ণ কাব্য-২

আমি বসে আছি । অপেক্ষা করছি অর্বাচীন পাখির একটি পালক হাতে। অপেক্ষার মুহূর্তগুলো বেড়েই চলেছে । আর, ক্রমশই কমে আসছে প্রদীপের জ্বালানি,ভেজা সলতের দীর্ঘতা।
বাইরে প্রচণ্ড উত্তাপ। কিন্তু ভেতরটা ভেজা স্যাঁতস্যাঁতে। স্যাঁতস্যাঁতে শ্যাওলায় পা পিছলে পড়ে যায় সাবধানী অনুভূতি। দুচোখে ভেসে উঠছে সাদা কুয়াশার এক চাদর। পথ ভোলা বাতাস এসে দিয়ে যায় এক ক্লান্ত পরশ।
আমি অপেক্ষা করছি । অপেক্ষা করছি আন্মনা,উদাসী হিমেল বাতাসে। অতঃপর দেখি পালকটি হাতে নেই । আমি শূন্য হাতে বসে আছি শূন্যতার পানে চেয়ে ।

প্রতিবিম্বের বিবর্ণ কাব্য-১

ঘুমন্ত চোখের শুভ্রতা কেটে গেছে একটু আগে । পরিত্যক্ত পথে শুরু করেছি যাত্রা। কৃষ্ণ নেত্র হতে কৌতূহলী দৃষ্টি ছড়ায়ে পড়েছে চারিদিকে। পথে পথে পড়ে আছে পুরনো পায়ের  চিহ্ন । তবুও কোথাও কেউ নেই ।
প্রাচীন প্রতিবিম্ব দেখা যায় শেওলা পড়া প্রাচীরে। প্রাচীরের ওপারে যাওয়ার কোন পথ নেই। কল্পনার এক মেঘদূত পাঠিয়ে দিয়েছি এখানে এসে। হয়ত সে মেঘেরা দিকভ্রান্ত হবে-দিক বিদিক ছুটে। শুধু একা আমি দাড়িয়ে থাকি এখানে।
কৌতূহলী দৃষ্টি চেয়ে রয় ফিরে আসা সে মেঘের অপেক্ষায় । ধ্বনিত হয় পথে পথে পদধ্বনি। চারিদিকে অসংখ্য মানুষের ভিড়। আমরা সবাই অপেক্ষায় দাড়িয়ে।