দুখের বাউল সন্ন্যাসী

সোমবার, ৭ জুলাই, ২০১৪

[১]
আমি যে বাউল উদাসী মনে, সন্ন্যাসী সাধু ব্যথা-সুরা পানে-
আমি যে বিবাগী বৈরাগী ভব –তব আমি যে ফেরারি ভিখারি ,
চলতি পথে আমি সেথা যাই, দিবসও বেলার যেথা আলো নাই-
যেথা শুধু দুখ ঘোর অমানিশা -কালো আঁধারের অভিসারী ।

[২]
পরাজিত আমি গ্লানি সাথী মোর,আলোর মাঝেও আঁধারের ঘোর-
খুজে ফিরি আমি দুর্গম গিরি – ধুধু বালুচর, পারাবার,
নিখিল এ ভুবনে পথচারী বেশে,ঘুরি আমি চেনা অচেনা দেশে-
ঘুরি আমি দুখ অন্বেষণে-আজ খুলে যাক সব ব্যথা দ্বার ।

[৩]
ঐ অস্ত রবির শেষ আলো আমি, মহা আধারিত অন্তর্যামী-
জাগে চাঁদ তাঁরা সে আঁধারের মাঝে-আমি শুধু তা দেখি নাই,
করুন সুরের বেদনার বাঁশি,কানে এসে হয় গভীর তিয়াসি-
মিটাতে পারিনা সে প্রানের তিয়াসা-আমি যে একাকী অসহায়।

[৪]
খুজি নাকো আমি সুখ তরী ভবে,জীবন নদীর উথাল স্রোতে-
খুজি নাকো আমি সুখ নীড় কভু – এই নিবিড় নিকুঞ্জে,
খুজে চলি আমি ব্যথা ভরা নদী,কষ্টেরা যেথা চলে নিরবধি-
বেদনারা যেথা কূলে কূলে ভেড়ে – নীল দুখের তরেঙ্গে ।

[৫]
হেঁটে চলি আমি দু পায়ে চরিয়া,শত বাঁধার ঐ দেয়াল চিরিয়া-
পাড়ি দেই আমি বনভুমি, মরু – অস্থির জল,তল,
খুঁজে চলি আমি আঁধারে আঁধারে, তিক্ত রোদের বুকের পাঁজরে-
কষ্টের রেখা কোথা আছে আঁকা-কোথা আছে আঁখি জল।
-আংশিক প্রকাশ।

অন্য সমীকরণে দাড়ায় চলমান জীবন

রবিবার, ৬ জুলাই, ২০১৪

দোলাচল! যৌগিক জীবনে সত্য মিথ্যার দোলাচল,অকারণ দ্বন্দ্ব,
শোক-তাপ, আনন্দ-হাসির মিশ্র প্রতক্রিয়া-সংজ্ঞাহীন কাব্য।
জাগতিক সভ্যতা আর নির্বোধ ইচ্ছে চলে অন্য নিয়মে,ভ্রান্ত পথে-
আর অন্য সমীকরণে দাড়ায় চলমান জীবন-প্রাণময় খণ্ড গল্প।
তবুও চলছে জীবন, বেঁচে থাকার আকুলতা, সৃষ্ট স্বপ্ন-আশা,
ভগ্ন আশার পুরনো দেয়াল ধরে দাড়িয়ে থাকে প্রচেষ্টার ছায়ামূর্তি।
প্রদাহ বাড়ে স্পর্শকাতর অভ্যন্তরে নিষ্পেষিত সুখের মর্মকথায়,
দুচোখের গভীরে তাই আশ্রয় নেয় বোবা নক্ষত্র, মৃত প্রেমের ছায়া।
হয়তো আজ প্রতিষ্ঠিত-রঙের আঁচড়ে আঁধারিত জীবন ক্যানভাস-
তবুও-জীবন ঠিকই মেঘবর্ণ,ঘোলাটে জলের অন্তহীন মহাকাব্য।
অন্ধত্ববোধ চুরি করেছে আলো, চারিদিকে বেখায়ালি অন্ধকার,
অন্ধ আঁধারের কান্না ভিজিয়ে দেয় রঙ মাখা আলো, নতুন ভোর।

জানিনা কতটা পথ আর বাকি

বৃহস্পতিবার, ১৯ জুন, ২০১৪

আর কতটা পথ এগুলে মিলবে গন্তব্য ঠিক জানিনা-
তপ্ত রোদে পুড়েছে মুখের আঙ্গিনা, পায়ে ধুলোর চিহ্ন,
আকস্মাৎ চিড় ধরে নগ্ন মাটির বুকে, আমি তাকিয়ে দেখি-
আমি বিলাপ করি, হৃদয়ে আরও স্পষ্ট হয় দুঃখবোধ।
আমি চিৎকার করি- শুনতে পায় না কেউ, শুধু প্রতিধ্বনি জানিয়ে দেয়-
অমীমাংসিত অধ্যায়ের শেষ অনুচ্ছেদ।

কোন কথোপকথন নেই, নেই স্থিরতাও-
অস্থির, চঞ্চল, নির্দ্বিধায় শুধু একা একা পথ চলা,
কাল্পনিক সেই সময় হয়তোবা অধরা, মিথ্যে উপাখ্যান,
বুকের পাঁজরে জমেছে পচা প্রেম, তাই শোকও বিক্ষিপ্ত।
হাতের বক্ররেখা আমাকে চালিত করে ভ্রান্ত পথে, আমি হই দিকভ্রান্ত পথিক-
বুঝি জীবনের ব্যর্থতার সরল সমীকরণ।

কাঙ্ক্ষিত স্বপ্ন আমাকে কুরে কুরে খায় তাই-
মাঝে মাঝে পালাবার পথ খুঁজি গন্তব্যহীন দিক্বিদিক,
আমি মুখ লুকায় আঁধারে, দেখি সম্মুখে বিবস্ত্র মনুষ্যত্ব বোধ,
ভিখারির মত আমি ফিরে আসি তবুও করি মিথ্যে অভিনয়।
শুভ্রতার অভিশাপ আমাকে পোড়ায় ভীষণ, আমি ক্ষতবিক্ষত হই সর্বাঙ্গ জুড়ে-
তাই অনুভবে মিশে থাকে শুধু দগ্ধ যন্ত্রণা।

কখনোবা দৃষ্টি নিক্ষিপ্ত হয় আমার ছায়ামূর্তির দিকে-
যেখানে বন্দী আমি, যেখানে আমার আজন্ম বসবাস।
আমি ফিরে তাকাই শূন্য বাতাসে, অপলক অবাক নয়নে,
আমাকে জাপটে ধরে হতাশা, জন্মান্তরের সঙ্গায়িত শূন্যতা।
নিকষ কালো রাতের একাকীত্ব আমাকে সঙ্গ দেয় উজ্জ্বল দিনের আলোতে-
আমি কথা বলি মৃতপ্রায় মানুষের মত।

তবুও বাঁচার গর্বে বার বার আত্মহারা হই-
বাণিজ্যিক ঋণ শোধ-পরিশোধের অংক কষি।
স্পষ্ট অস্পষ্ট স্বাক্ষরে মেটাতে চাই সব দেনা পাওনা-
জীবনের ক্ষুধার্ত যত অভিলাস।
আর কতটা সময়,আর কতটা পথ এগুলে মিলবে গন্তব্য ঠিক জানিনা -
জানিনা কতটা পথ আর বাকি ।

নিত্য বিচ্ছিন্ন হয় মৃত কোষাগার

শুক্রবার, ৯ মে, ২০১৪

কোন শাখা প্রশাখা নেই, ঠাই দাড়িয়ে শুধু শুকনো কাণ্ড-
পরগাছা নিয়েছে আশ্রয় তাই এখানে বাতাস আজও জীবন্ত।
রোদ্দুর, ঝরা বাদল আজও আসে এখানে, দেখে যায় তারুণ্য,
অগোচরে থেকে যায় একটি শেষ গল্প- মৃত কাণ্ডের বৃত্তান্ত।
অন্ধকারের দেয়াল এখানে নিশ্চুপ, শুধু কথা বলে জোনাকি,
বেদনায় নীল হয়ে জ্বলে জ্বলে নিভে যায়, পেরিয়ে যায় রাত-
তবুও- গল্পের ইতিতে হয় পুনঃরাবৃতি, আবার নতুন আলো
তবে সে আলো আসে জ্বালাতে, নিঃশেষে বিলীন অন্তরাত্মা।
ক্ষয়িষ্ণু নিষ্প্রাণে চিড় ধরে, নিত্য বিচ্ছিন্ন হয় মৃত কোষাগার,
শুধু -ধ্রিয়মাণ আলো, বাতাসের গন্ধ জড়ানো থাকে শরীরে।।

ইচ্ছের সাথে আলাপন

সংগত কারন কিংবা উপলক্ষের বাইরে হঠাৎ-
সদ্য জন্ম নেওয়া ইচ্ছের সাথে কথা বলি একান্তে ।
আমি স্বাধীন নাকি পরাধীন ? প্রশ্ন জেগে ওঠে মনে,
অদ্ভুত তাড়নায় অস্থির হয়ে ওঠে হৃৎপিণ্ডের মধ্যভাগ।

আমি ক্লান্ত নই তবুও ক্লান্তির ছায়ায় আমি নিবিষ্ট,
আক্ষেপে কেটে যাচ্ছে কাল, ক্রমন্বয়ে ঘড়ির কাঁটা।
দিগ্বিদিক দুরন্ত,দুর্বার শুধু আমার চোখে নীরবতা,
বান আসা নদীতে পড়েছে ভাঁটা, জেগেছে নব চর।

শুন্য আকাশ যেন ফাটা বুকে মেলে আছে ডানা,
নিভে গেছে দ্বীপ, থেমে গেছে সব পূজা-আরাধনা।
ক্ষণজন্মা শিশিরের হয়েছে মৃত্যু,শোকে কাঁদে না কেউ,
উপলব্ধির আবাসে ঢুকেছে ছেঁড়া মেঘ, আলো নেই ।

কোথাও কি আলো আছে? নাকি সবই অন্ধকার?
তবে কি সূর্য হয়েছে মিথ্যে? নাকি সেও পলাতক?
উড়ে চলা পাখি নেই কোথাও, ফুলগুলো সব মৃত,
ব্যর্থ হয় স্পর্শের অভিলাষ, দুহাতে জড়ানো বেড়ি।
ঘুরছি চক্রাকারে বুঝিনি এই আমি এত দিনেও-
পালানোর পথ নেই, চারিদিকে পুরনো ইচ্ছের লাশ।

দোলাচল

শনিবার, ৩ মে, ২০১৪

এখানে লাশ, ওখানে উল্লাস, যেন দ্বৈত দৃশ্যের অবতারণ,
কোথাও ব্যস্ততা, কোথাও নিরবতা, কোথাও-বা আর্তনাদ।
মাতাল প্রচেষ্টা, আকাঙ্খা-আক্ষেপ, নিয়তির নির্ণেয় ব্যর্থতা-
অস্বস্তিবোধ আবার স্বস্তির নিঃশ্বাস যেন ভগ্ন সরল ব্যকারন।
কখনও প্রত্যাশিত আবার কখনওবা অপ্রত্যাশিত ঘটনা-
বাতাসে দোলে সত্য-মিথ্যার পেন্ডুলাম, ক্ষয়িষ্ণু ক্রান্তিকাল।
মার্জিত-অমার্জিত ভাষা কিংবা অপভাষায় বিদ্ধ সম্পর্ক -
ধুলো মাখা রাস্তায় পড়ে থাকে ঝরা পাতা, ভেজা জোছনা।
-আংশিক প্রকাশ।

প্রতিবিম্বের বিবর্ণ কাব্য– ১৭

শনিবার, ১৯ এপ্রিল, ২০১৪

তেজস্বী রোদের দাপট এখন এর নেই। ঝলমলে ভাবটা কিছুটা মলিন। শুকনো কাঁটায় ঝুলে থাকা দীর্ঘশ্বাস ঝরে পড়েছে। থেকে থেকে ভেসে আসছে কিছু পোড়া বাতাস। দমকা সে বাতাসের নাম দিয়েছি অর্বাচীন। কথা হয়নি তার সাথে তবু জেনেছি তার আদি অন্ত।

হঠাৎ নিদাঘ আকাশের সীমাহীন চূড়ায় চক্রাকারে উড়ে চলে এক ভুবন চিল। আশেপাশে আর কোথাও কোন পাখি নেই। ঊর্ধ্বদৃষ্টি বিদ্ধ হল সে আকাশ সীমায়। তারপর বুকের ভিতর অনুভূত হল গভীর শূন্যতা । ঝরে পড়ল আবার দীর্ঘশ্বাস আর ধ্রিয়মাণ ধ্রুপদ। মটির দিকে তাকিয়ে দেখি একটি মৃত সাদা বক আর ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা রক্ত, রক্ত মাখা পালক। শিহরিত হল সমস্ত শরীর বিদ্যুৎ গতিতে।

কিছু কাকেদের ডাক কানে এলো। তারপর তাকিয়ে দেখি অসংখ্য কাক চারিদিকে কা কা শব্দে বিভোর। আকাশ চূড়ায় উড়ে চলা ভুবন চিলটি আর নেই। কিছু বাতাসের ঝাপটা এসে লাগলো মুখের আঙিনায়। কিন্তু সে বাতাস অনির্ণেয়,অচেনা, দিয়ে গেল অন্য এক অনূভব্য শিহরণ।

আমি বিদায়ের কথা বলি

বুধবার, ২ এপ্রিল, ২০১৪

বেঁচে থাকার অদম্য সেই আকুলতা আজ আর নেই এতটুকুও-
ফুরিয়ে গেছে সব চাওয়া পাওয়া, প্রত্যাশায় বোনা রঙ্গিন স্বপ্ন।
অগচরে ফুরিয়ে গেছে নিজের প্রয়োজন যেন নিজের কাছেই,
তাই- মনে জাগে বিতৃষ্ণা, বিদায়ের তীব্র আকাঙ্ক্ষা, স্বাদ।
প্রদীপের পাশে ঘুরে ঘুরে মৃত্যুর ক্ষণ গোনে ক্ষুদ্র পোকার দল-
আমি তাকিয়ে দেখি। আমি খুঁজে ফিরি আঁধারে মৃত্যুর আলো।

পড়ে থাকে বাঁশি, হারিয়ে যায় সেই বাঁশরীর সুর, লয়, টান-
কাব্য কথারা হারিয়ে যায় ঠাস বুনটের অভিমানী মেঘলা দুপুরে।
আমি অবাক চোখে দেখি অস্ত সূর্য, ভেজা সলতের ভগ্নাংশ,
বুনো ফুল ঝরে যায় গহীন অরণ্যে, মনে জেগে ওঠে বিরহ-ব্যথা।
নৈশব্দে নিভৃতে ছুটে চলে স্বচ্ছ জলস্রোত নীল চোখের মণিতে,
আমি ভেঙ্গে চুরমার হয়ে গড়ি-হাহাকার, বীভৎস ধ্বংসের স্তূপ।

ফেরারি পাখির মত জীবন নিয়ে আজ খুঁজে ফিরি নিরাশা
অন্ধ আঁখির মত ডানা মেলে উড়ে যায় মন নিকষ আঁধারে।
ক্লান্ত শ্রান্ত দেহে নামে না নোনা ঢেউ, বান আসে নীল বিষের,
নক্ষত্রের অভিশাপে জ্বলে অন্তর, ভেঙ্গে যায় সব অভিলাস।
নিরন্তর ছুটে চলার মাঝে নেমে আসে বিশ্রামের উন্মত্ত ঢল,
নিদারুণ উপেক্ষায় ভুলে যাই ক্ষণ গন্তব্য, সুনিবিড় পান্থশালা।

আমি বিদায়ের কথা বলি, তৃষালু নয়নে আঁকি অগ্নিশিখা,
আমি এই পৃথিবীকে জানাতে চাই চির বিদায়ের সেই বানী।
হয়তো কেঁপে উঠবে মাটির বুক, আমার শরীর সোফার্দে,
হয়তো জ্বলে উঠবে আগুন চিতার কাষ্ঠে, হয়তোবা ঐ -
ক্ষুধার্ত শকুনের হবে উৎসব আয়োজন এর বেশি কিছু নয়।
বয়ে যাবে বাতাস, বয়ে যাবে নদী, সাগর সব আগের মতই।

নক্ষত্রগুলো জ্বলে জ্বলে নিভে যাবে আবার রাতের আকাশে,
নিতান্তই অনিচ্ছায় শুধু দিন গুনে গুনে ক্লান্ত হবে মহাকাল।
দ্রাঘিমা অক্ষাংশ কিমবা বিষুব রেখায় ভেসে ওঠে ক্লান্তির ছায়া,
হয়তো সমুদ্র পৃষ্ঠ হতে ভূপৃষ্ঠে অঙ্কিত হবে মলিন বিষণ্ণতা ।
জানি আমি-জানি হবে না দেখা আর রক্ত রাঙ্গা নতুন সকাল,
ঝরা ফুল হয়ে পড়ে রব অবহেলায় ধুলো মাখা মৃত্তিকার কোলে।

- আংশিক প্রকাশ।

জীবন ক্যনভাসে ছিটকে পড়ছে নষ্ট আধুনিকতার রং

সোমবার, ২৪ মার্চ, ২০১৪

আধুনিক শব্দটার সাথে আমরা পরিচিত সবাই যার আভিধানিক অর্থ নব্য, নতুন, চালু,সাম্প্রতিক, বর্তমান এ ছাড়াও বলা চলে- অধুনা, অধুনাতন, অদ্যাপি প্রচলিত, অর্বাচীন, নতুন অবস্থা। আর আধুনিকতা হচ্ছে- আধুনিক বিষয়, নবীনতা, সাম্প্রতিকতা, নতুন অবস্থা। এই আধুনিক এবং আধুনিকতাবাদ উৎপত্তি সম্পর্কে বিখ্যাত উপন্যাসিক রেমণ্ড হেনরি উইলিয়ামস বলেন আধুনিক (Modern) শব্দটি ইংরেজিতে প্রচলিত হয় ষোল শতকের গোড়াতেই এবং আধুনিকতাবাদ (Modernism) আঠারো শতকের জ্ঞানদীপ্তির যুগেই উদ্ভুত হয়।

স্বাভাবিক ভাবে আধুনিকতা বলতে বোঝায় যুগের সাথে তাল মিলিয়ে চলা। কিন্তু প্রকৃত অর্থে তা হতে হবে অবশ্যই চিন্তা ভাবনা, শিক্ষায় ও মননশীলতায়। আর একটু বিশ্লেষণ করলে- আধুনিকতা আসলে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি, যাপিত জীবন এবং সময়ের সাথে নিবিড় ভাবে সম্পৃক্ত। মুলত যা কিছু সুন্দর, স্বচ্ছ, অর্থপূর্ণ এবং এই মানব সভ্যতায় যা কিছু আমাদের জন্য সঠিক, স্বস্থিকর, মঙ্গলজনক, যুগোপযোগী তাই-ই আধুনিকতা। যদিও অনেক কিছুই বলে ফেলেছি কিন্তু আধুনিকতাকে আসলে তত্ত্বগতভাবে উল্লেখ করা সম্ভব নয়। শুধু এই টুকুই মনে প্রানে ধারন করতে হবে যে আত্মচেতনাকে অক্ষুণ্ণ রেখে যুগোপযোগী হওয়াটায় আধুনিকতা।

কিন্তু বর্তমানে আধুনিকতার নামে বিশেষ করে তরুন প্রজন্মের অশালীন এবং উচ্ছৃঙ্খল জীবন যাপনে মননের চর্চা নেই বললেই চলে। একটু নির্দিষ্ট করে আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে বলা যায় বর্তমান এই তরুন প্রজন্ম ওয়েস্টার্ন কালচার এবং ফ্যসানের ব্যহিক চলনে শুধু আমাদের সংস্কৃতি এবং সৃজনশীলতাকেই খর্ব করছে তা নয় সাথে সাথে আমাদের সুস্থ জীবন যাত্রাকে শঙ্কার মধ্যে ফেলে দিচ্ছে। বিশেষ করে বর্তমানে মেয়েদের অশালীন পোশাক, বিভিন্ন অঙ্গে রং মেখে অবেদনময় প্রদর্শন, হালের ফ্যসানে গা ভাসনো পরিলক্ষিত হচ্ছে। আধুনিকতার নামে বিভিন্ন উৎসব, উপলক্ষে খোলামেলা পরিবেশে বেপরোয়া চলাফেরা এবং জনে জনে নিজেদের সতীত্বকে বিলিয়ে দেওয়ার মাঝেই শুধু সীমাবদ্ধ থাকছে না জড়িয়ে পড়ছে নানা রকম অপরাধ মূলক কর্মকাণ্ডের সাথে। সমাজে বৃদ্ধি পাচ্ছে অপরাধ প্রবনতার হার বহুগুনে যার সাথে সম্পৃক্ত শুধু মেয়েরাই নয়,অনেক ছেলে কিংবা পুরুষও। এছাড়াও আধুনিকতার নামে রাস্তার পাশে দাড়িয়ে থাকা বড় বড় বিলবোর্ডের মাঝে অর্ধনগ্ন কামাতুর বিজ্ঞাপন গুলোও অপরাধ প্রবনতার সহায়ক ভুমিকা পালন করছে। নষ্ট আধুনিকতার ছোঁয়ায় মিডিয়া অর্থাৎ টেলিভিশন, ডিস সংযোগ, ইন্টারনেট, পেপার পত্রিকা গুলোও এক বিরুপ প্রভাব ফেলছে যার জন্য দায়ী আধুনিক অসুস্থ ধারার খোলামেলা চলচিত্র,অশালীন ওয়েব সাইট,নগ্ন অর্ধনগ্ন বিজ্ঞাপন এবং পত্রিকার বিনোদন পাতার অশালীন চিত্র। এ রকম আরও অনেক কিছুই আধুনিকতার নামে আমাদের জীবন ক্যনভাসে ছিটকে ফেলাচ্ছে নষ্ট রং। আর এতে করে আমাদের শৈল্পিক জীবন হচ্ছে কুলসিত ।

একটি বিষয় আমাদের লক্ষ রাখতে হবে যে, কালে কালে আধুনিকতার নানা রকম লক্ষন থাকলেও একটি বিষয় সাধারণ্যে স্বীকৃত আর তা হল স্ব-চেতনতা (self-consciousness). এটাকে বলা যায় প্রথম এবং অনিবার্য শর্তও। আমাদের আরও মনে রাখতে হবে আধুনিকতা আসে শিক্ষা, শালীনতা এবং মনন থেকে, অশ্লীলতা থেকে নয়। আমরা অবশ্যই আধুনিক হব তবে তা কল্যাণকর এবং সুস্থ ধারার।

প্রতিবিম্বের বিবর্ণ কাব্য– ১৬

সোমবার, ১৭ মার্চ, ২০১৪

কেউ একজন নীল দ্বীপ হতে এসেছে এখানে। নীলাভ চোখ দুটোর দিকে তাকালে মনে হয় শান্ত দুটি অথৈ জলের সমুদ্রপৃষ্ঠ। স্পষ্ট মুখের দিকে তাকালে মনে হয় কিছুটা মেঘলা আকাশ। হয়তো কিছুক্ষন পর বৃষ্টি নামবে। মনে হল সে মানুষ না। আমি কাছে এগিয়ে যাই, কৌতূহলে ছুঁয়ে দেখি।

মুহূর্তেই নিজের দিকে তাকিয়ে দেখি আমি নীল হতে শুরু করেছি। সব অঙ্গ প্রত্যঙ্গ নীল বর্ণ ধারন করছে। চোখ দুটো জ্বালা করে রক্তিম হয়ে উঠেছে। যেন সকালের রক্ত মাখা সূর্য। নিজেকে দেখে নিজেরই ভয় হল। আমি বিভ্রান্ত হলাম। বুঝতে পারলাম না আমি জীবিত নাকি মৃত।

চোখের কোনা বেয়ে গড়িয়ে পড়া অশ্রু মুছে দেখি তা রক্ত। তারপর বৃষ্টি এলো। আমি চোখ বুজে দাঁড়িয়ে ভিজলাম সে বৃষ্টির জলে। চোখ খুলে তাকিয়ে দেখি আমি স্বাভাবিক আর সেই নীল মানুষটি আমার সামনে। আমি ভীরু জিজ্ঞাসু কণ্ঠে বলে উঠি কে তুমি? তারপর সে মিলিয়ে যায় শূন্যে। শুধু একটি হাঁসির শব্দ মিশে থাকে বাতাসের বুকে। ধ্বনিত প্রতিধ্বনিত হতে থাকে আমার চারপাশে।